যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দুর্নীতির ছায়া, এ বার আচার্য ও শিক্ষা দফতরের দ্বারে আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দুর্নীতির ছায়া, এ বার আচার্য ও শিক্ষা দফতরের দ্বারে আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, ফ্যাকাল্টি সেক্রেটারি এবং প্লেসমেন্ট অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে আরএসএস-সমর্থিত শিক্ষক সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ’ (এবিআরএসএম)। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে এই শিক্ষক সংগঠনটি এবার সরাসরি রাজ্যের শিক্ষা দফতর এবং আচার্য তথা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হতে চলেছে। লোকসভা নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকার মাঝেই কেন তড়িঘড়ি গুরুত্বপূর্ণ পদের ইন্টারভিউ নেওয়া হল, তা নিয়ে প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে শিক্ষা মহলে।

সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ জানিয়েছেন, গত ৯ মে বর্তমান উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার এবং শিক্ষক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে উপাচার্য আইনি পরামর্শের পর এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করায় বিষয়টি উচ্চতর প্রশাসনিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনও যথাযথ নিয়ম মেনে হয়নি বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে এবিআরএসএম।

উপাচার্য ও বাম শিক্ষক সংগঠনের অবস্থান

অন্য দিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিয়োগ এবং ইন্টারভিউ সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা কার্যনির্বাহী পরিষদ সম্মিলিতভাবে গ্রহণ করেছে। ফলে এখানে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও মতামতের অবকাশ নেই।

বাম-সমর্থিত শিক্ষক সংগঠন ‘যাদবপুর ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (জুটা)-ও প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের দাবি, স্থায়ী রেজিস্ট্রার নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার কারণে প্রশাসনিক প্রয়োজনেই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলেও আদালত কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি।

বিতর্কের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই প্রশাসনিক সংঘাতের মূল কারণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষক সংগঠনগুলির মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা এবং স্বচ্ছতার অভাব। নির্বাচন চলাকালীন ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

এই বিতর্কের জেরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পঠনপাঠন ও স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজ্য সরকার ও রাজভবন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্বায়ত্তশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে, যা ক্যাম্পাসের সার্বিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *