বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ট্যাক্সে বড় ছাড়, ফিরবে কি অর্থনীতির হাল

দেশের বাজার থেকে অনবরত বিদেশি পুঁজি চলে যাওয়ার জেরে তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ সামলাতে এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতীয় সরকারি বন্ডে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে যখন দেশীয় অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই বিদেশি পুঁজি আকর্ষণে এই বিশেষ ছাড়ের অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে আয়কর আইন সংশোধনের জন্য একটি অর্ডিন্যান্স জারির প্রস্তাবেও সম্মতি দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রপতির সই মিললেই কার্যকর হবে।
ট্যাক্স ছাড়ের স্বরূপ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধা
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বা বন্ডে ১২ মাসের বেশি সময় বিনিয়োগ ধরে রাখলে তাঁদের ১২.৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হয়। নতুন নিয়মে ভারতের সরকারি সিকিউরিটিজ বা বন্ড থেকে অর্জিত লাভের ওপর এই কর আর দিতে হবে না। এর পাশাপাশি বন্ডের সুদের আয়ের ওপর করের বোঝা কমানোর বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে সরকার। বর্তমানে এই সুদের ওপর ২০ শতাংশ উইথহোল্ডিং ট্যাক্স দিতে হয়, যা ২০২৩ সালের আগে ৫ শতাংশ ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কর কাঠামোর কারণেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন, যা এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে।
অর্থনীতি ও টাকার মূল্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
চলতি ২০২৬ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নেওয়ায় টাকার মূল্যের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি বন্ডে ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ফলে দেশের ঋণ বাজারে (ডেবট মার্কেট) ডলারের জোগান বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বন্ড বাজারে বিদেশি পুঁজি এলে বাজারে লিকিউডিটি বা তারল্য বাড়বে এবং টাকার বিনিময় মূল্য স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে। অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণে তৈরি হওয়া মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত মূলধনের উৎস দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।