একমাসে দুইবার বেতনের নতুন প্রস্তাব! কর্মীদের আর্থিক সংকট কি সত্যিই কমবে?

শাদি ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা ও খ্যাতনামা উদ্যোগপতি অনুপম মিত্তল করপোরেট দুনিয়ায় এক অভিনব বেতন কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, মাসে একবারের পরিবর্তে দুই ভাগে ১৫ দিন পর পর কর্মীদের বেতন দেওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কড ইনে তাঁর এই প্রস্তাবের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে চাকরিজীবী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।
সাধারণত মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ার পর বাড়িভাড়া, ক্রেডিট কার্ডের বিল, ইএমআই এবং অন্যান্য পারিবারিক খরচ মেটাতে গিয়ে অধিকাংশ কর্মীর পকেট মাসের মাঝামঝি সময়েই শূন্য হয়ে পড়ে। অনুপম মিত্তলের যুক্তি, বেতনকে দুই ভাগে ভাগ করে মাসের শুরুতে এবং মাঝামাঝি সময়ে দিলে কর্মীরা সহজে তাঁদের আর্থিক চাপ সামলাতে পারবেন। এছাড়া অনেক সময় সপ্তাহান্ত বা সরকারি ছুটির কারণে মাসের শুরুতে বেতন পেতে বিলম্ব হলে কর্মীদের যে ভোগান্তিতে পড়তে হয়, এই পদ্ধতিতে সেই জটিলতা এড়ানো সম্ভব। এতে চাকরিজীবী, নিয়োগকর্তা এবং দেশের অর্থনীতি— তিন পক্ষই উপকৃত হবে বলে তিনি মনে করেন।
আর্থিক শৃঙ্খলা বনাম বাস্তব চ্যালেঞ্জ
এই আইডিয়াটি সাধারণ চাকরিজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হলেও বাজার বিশেষজ্ঞরা এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কেবল বেতন পাওয়ার সময় বা ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন করলেই কর্মীদের গভীরতর আর্থিক সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। যদি কর্মীদের সামগ্রিক আর্থিক সাক্ষরতা, পর্যাপ্ত মজুরি বৃদ্ধি এবং সুশৃঙ্খল ব্যয়ের অভ্যাস তৈরি না হয়, তবে ঘনঘন বেতন পেলেও তাঁরা একই ধরনের আর্থিক টানাপোড়েনের মুখোমুখি হবেন।
তাছাড়া, মাসে দুইবার বেতন প্রক্রিয়াকরণ করতে গিয়ে করপোরেট সংস্থাগুলোর মানবসম্পদ (এইচআর) ও অ্যাকাউন্টস বিভাগের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে এই পদ্ধতি কর্মীদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, এটি তাঁদের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।