আটাশ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপে নরওয়ে, মাঠের লড়াইয়ের আগে আলোচনায় ৩০০ কেজি মাছ

আটাশ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপে নরওয়ে, মাঠের লড়াইয়ের আগে আলোচনায় ৩০০ কেজি মাছ

দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। আর্লিং হাল্যান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডদের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে মাঠের ফুটবলে নামার আগেই এক অভিনব কারণে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে নরওয়ে শিবির। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নিজেদের ট্রাভেল ব্যাগে বিপুল পরিমাণ ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে গেছে তারা।

খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিটনেস ধরে রাখতে এবং মাঠের সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে খাবারের উপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেই লক্ষ্যেই দলীয় স্কোয়াডের সঙ্গে আমেরিকায় উড়ে গেছে প্রায় ৩০০ কেজি কাঁচা মাছ এবং ১১৬ কেজি নরওয়ের বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী ‘ব্রাউন চিজ’। ফুটবলারদের ঘরের স্বাদ দিতে এবং শতভাগ পুষ্টির জোগান সচল রাখতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।

খাবারের টেবিলে নরওয়েজিয়ান গোপন অস্ত্র

স্থানীয় মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভর না করে খেলোয়াড়দের জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব সংস্কৃতির পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করতে চান নরওয়ের দলীয় পুষ্টিবিদ ও শেফরা। এই মিশন সফল করতে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দুই খ্যাতনামা শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড এবং এইরিক তুফতে-কে। নরওয়ের খাদ্যসংস্কৃতির প্রধানতম অংশ লাল মাছ ও ব্রাউন চিজ ব্যবহারের মাধ্যমে হাল্যান্ডদের চনমনে রাখাই মূল লক্ষ্য। প্রায় আধ টন খাদ্যসামগ্রী ভিন্ন মহাদেশে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে নিখুঁত বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, যা খেলোয়াড়দের মানসিক স্বস্তি ও শারীরিক শক্তি জোগাবে।

প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে নতুন সমীকরণ

আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’-এ নরওয়েকে লড়তে হবে ফ্রান্স, সেনেগাল এবং ইরাকের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আগামী ১৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের মূল বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসার চাপ সামলাতে নরওয়ে ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক অবসাদ দূর করা জরুরি। ঘরের চেনা পরিবেশ ও পুষ্টিকর খাবার ফুটবলারদের হোম সিকনেস কাটিয়ে দীর্ঘ টুর্নামেন্টে মনোযোগ ধরে রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করবে। মাঠের রণকৌশলের পাশাপাশি নরওয়ের এই ‘খাদ্য কূটনীতি’ টুর্নামেন্টে তাদের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *