বাংলা সিনেমা বাঁচাতে এবার মোদী সরকারের দরবারে যিশু!

বাংলা সিনেমা বাঁচাতে এবার মোদী সরকারের দরবারে যিশু!

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবর্তনের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। দুর্নীতি ও দীর্ঘদিনের ‘নিষিদ্ধ সংস্কৃতি’ বা ব্যান কালচারের অবসান ঘটিয়ে সিনেশিল্পের সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন কলাকুশলীরা। এই নতুন আবহে বাংলা সিনেমার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড সোজা করতে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের কাছে এক জোরালো আবেদন রাখলেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত। তাঁর স্পষ্ট দাবি, রাজ্যের বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমা হলগুলি দ্রুত পুনরায় খোলার ব্যবস্থা করা হোক।

মাল্টিপ্লেক্সের দাপট ও বিপন্ন সিঙ্গল স্ক্রিন

আধুনিক বিনোদন মাধ্যমের আগ্রাসন এবং ওটিটি ও মাল্টিপ্লেক্সের রমরমার জেরে বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গল স্ক্রিন থিয়েটারগুলির অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। করোনাকালীন পরিস্থিতির পর এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যেখানে পূর্বে রাজ্যে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০টি সিঙ্গল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহ সচল ছিল, বর্তমান বাজারে তা কমতে কমতে একশোর ঘরে এসে ঠেকেছে। এর ফলে আগে যেখানে দৈনিক প্রায় ২,৮০০টি শো প্রদর্শিত হতো, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র দুই থেকে তিনশোতে। প্রেক্ষাগৃহের এই ব্যাপক ঘাটতির কারণেই মূলত মার খাচ্ছে বাংলা সিনেমার সামগ্রিক ব্যবসা।

ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

যিশু সেনগুপ্তের মতে, বাংলা চলচ্চিত্রের পরিধি ও দর্শকসংখ্যা বাড়াতে হলে অবিলম্বে এই শিল্পের অর্থনৈতিক কাঠামো চাঙ্গা করা প্রয়োজন, যার প্রথম ধাপ হলো সিঙ্গল স্ক্রিনগুলির পুনরুজ্জীবন। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে মুক্ত পরিবেশ তৈরি করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বন্ধ হলগুলি আবার চালু হলে প্রান্তিক স্তরের দর্শকরা কম খরচে সিনেমা দেখার সুযোগ পাবেন, যা আঞ্চলিক সিনেমার বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে যুক্ত হাজার হাজার কর্মহীন শ্রমিকের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *