মাঠে নামার আগেই বিশ্বজয়ের ইতিহাস, প্রথম ফুটবলার হিসেবে অনন্য রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপের উত্তাপ যখন বিশ্বজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক তখনই মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়ে নতুন সম্মানে ভূষিত হলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস ২০২৬’ এর বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ক্রীড়াজগতের অন্যতম সম্মানজনক এই পুরস্কারের ইতিহাসে মেসিই প্রথম ফুটবলার, যিনি এককভাবে এই গৌরব অর্জন করলেন। ইতিপূর্বে রাফায়েল নাদাল, মাইকেল শুমাখার এবং সেরেনা উইলিয়ামসের মতো কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদেরা এই পুরস্কার পেয়েছেন।
শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সমাজসেবা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা দেওয়া হয়। ফাউন্ডেশনের সভাপতি তেরেসা পেরালেসের নেতৃত্বাধীন জুরি বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে মেসির নাম ঘোষণা করেছে। জুরি বোর্ডের মতে, ফুটবল মাঠে মেসির পায়ের জাদু এবং মাঠের বাইরে তাঁর মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই তাঁকে এই অনন্য সম্মানের যোগ্য করে তুলেছে।
অনন্য অর্জনের কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
মেসির এই প্রাপ্তির পেছনে রয়েছে ফুটবল জীবনে সাফল্যের শিখর স্পর্শ করা এবং একই সঙ্গে মাঠের বাইরে দানশীল ব্যক্তিত্ব বজায় রাখা। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো ছাড়াও ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জয় এবং ২০০৮ অলিম্পিকে সোনা জিতেছেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে ১০টি লা লিগা ও ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পাশাপাশি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি’অর নিজের করে নিয়েছেন। এই বহুমুখী সাফল্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতাই মূলত জুরিদের আকৃষ্ট করেছে।
এই পুরস্কার প্রাপ্তির পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মেসি বলেন, “এই স্বীকৃতি পাওয়া আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মাঠের বাইরেও আমি কী করেছি তার মূল্যায়ন করা হয়েছে।”
বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে একক ফুটবলার হিসেবে মেসির এই বিশ্বরেকর্ড ও নতুন আন্তর্জাতিক সম্মাননা স্বাভাবিকভাবেই আর্জেন্টিনা শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এটি কেবল মেসির ব্যক্তিগত মুকুটে আরও একটি উজ্জ্বল পালকই যোগ করল না, বরং আসন্ন টুর্নামেন্টে গোটা দলের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা সৃষ্টিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।