বিদ্রোহী শিবিরে ২৪ ঘণ্টাতেই ফাটল, মমতাকেই একমাত্র নেত্রী মেনে ময়দানে পাঁচলার বিধায়ক

হাওড়ার রাজনীতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই এক নতুন মোড় নিল। বিধানসভায় সই-রাজনীতি আর ‘আসল তৃণমূল’ দাবির টানাপড়েনের মাঝেই এবার পাল্টা ধাক্কা খেল বিদ্রোহী শিবির। উলুবেড়িয়া পূর্বের সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফাটলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতেই রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয়তা এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেবল ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে মেনে নিতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে এবার প্রকাশ্যেই ময়দানে নেমেছেন পাঁচলার তৃণমূল বিধায়ক গুলশান মল্লিক।
নেতৃত্ব নিয়ে আপসহীন অবস্থান
হাওড়া জেলাকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী তৃণমূলের সমীকরণে জল ঢালতে তৎপর হয়ে উঠেছেন দলনেত্রীর অনুগামীরা। পাঁচলার বিধায়ক গুলশান মল্লিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। তাঁর সাফ কথা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল পথপ্রদর্শক নন, তিনিই দলের একমাত্র নেত্রী। যদি কেউ তাঁকে শুধুমাত্র পথপ্রদর্শক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন, তবে তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। হাওড়া জেলার ৫-৬ জন বিধায়কের সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং দলীয় বৈঠকেও এই অনড় অবস্থান জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
ক্ষমতার লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব
এর আগে বিধানসভার অন্দরে শক্তি প্রদর্শন করে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পক্ষে ৫৮ জন বিধায়ককে একজোট করে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। সংখ্যাধিক্যের জোরে তাঁরাই এখন ‘প্রকৃত তৃণমূল’ এবং রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বলে দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু এই শক্তির আস্ফালনের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ছবিটা বদলে যেতে শুরু করেছে। বুধবার যারা ঋতব্রতর পাশে দাঁড়িয়ে চিঠিতে সই করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন সুর বদলাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল স্রোতে ফেরার এই মরিয়া চেষ্টা এবং গুলশান মল্লিকের মতো বিধায়কদের অনড় অবস্থান বিদ্রোহী শিবিরের ভিত দুর্বল করে দিচ্ছে। ক্ষমতার এই টানাপড়েন ও আকস্মিক প্রত্যাবর্তনের জল্পনা আগামী দিনে শাসকদলের অন্দরে সাংগঠনিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে।