আইপিএল হাতাতে চেয়েছিল দাউদ ইব্রাহিম! ললিত মোদীর বিস্ফোরক দাবি

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) শুরুর দিনগুলোতে ফ্র্যাঞ্চাইজির নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের চক্র। এই দাবি না মানায় বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি, তোলাবাজি এবং খুনের চক্রান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল আইপিএলের প্রথম চেয়ারম্যান ললিত মোদীকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লন্ডনপ্রবাসী ললিত মোদীর এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রবল চাপই ছিল শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট প্রশাসন থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ।
রাত সাড়ে তিনটের সেই ফোন ও ক্ষোভের উৎস
২০১২ সালে লন্ডনে গভীর রাতে এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে স্যাটেলাইট ফোনে সরাসরি দাউদ ইব্রাহিমের কাছ থেকে হুমকি পান ললিত মোদী। এর পর থেকেই নিয়মিত টাকা দেওয়ার এবং আইপিএলের একটি দলের নিয়ন্ত্রণ আন্ডারওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ আসতে থাকে। মূলত ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের কারণে আইপিএল আকস্মিক দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানান্তরিত হওয়ায় অবৈধ বেটিং চক্রের বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়। আন্ডারওয়ার্ল্ডের ধারণা ছিল টুর্নামেন্ট সরানো সম্ভব নয় এবং সেই অনুযায়ী বাজি ধরে তারা যে অর্থ হারায়, তা ললিত মোদীর কাছ থেকে উসুল করতে চেয়েছিল। পাশাপাশি আইপিএলে স্পট ফিক্সিং ঠেকাতে মোদীর কঠোর অবস্থান ও ঘুষের প্রস্তাব নাকচ করা এই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।
খুনের ছক ও ক্রিকেট থেকে নির্বাসন
এই বিরোধের জেরে মুম্বইয়ে মোদীর বাড়ির বাইরে গুলি চলা, দক্ষিণ আফ্রিকায় হামলার পরিকল্পনা এবং ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে খুনের চক্রান্তের মতো ঘটনা ঘটে। এমনকি লন্ডনে তাঁর ছেলেকে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতা না করে ক্রিকেট থেকে চিরতরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ক্রিকেট, বলিউড ও কর্পোরেট জগতের মেলবন্ধনে আইপিএলের সফল ব্যবসায়িক মডেল খাড়া করেছিলেন ললিত মোদীই। তবে ২০১০ সালে আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে বিসিসিআই তাঁকে সাসপেন্ড করে, যার পর তিনি ভারত ছাড়েন এবং ২০১৩ সালে তাঁকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ললিত মোদীর এই সাম্প্রতিক দাবি যদি সত্য হয়, তবে তা বিশ্ব ক্রিকেটে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গভীর ও বিপজ্জনক প্রভাবকে আবারও সামনে এনে দাঁড় করাবে।