‘চটি-চাটা’ মন্তব্যেই বিস্ফোরণ! হঠাৎ কেন ফেসবুক ছাড়ার ঘোষণা বাবুল সুপ্রিয়র?

‘চটি-চাটা’ মন্তব্যেই বিস্ফোরণ! হঠাৎ কেন ফেসবুক ছাড়ার ঘোষণা বাবুল সুপ্রিয়র?

বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহে তিনি কোন শিবিরে রয়েছেন, তা নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্রমাগত জল্পনা চলছিল। অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্ট লিখে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। সব ঝড়ঝাপটা সত্ত্বেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এই গায়ক-রাজনীতিবিদ। একই সঙ্গে ক্ষমতার লোভে দল ভাঙা ও দলবদলুদের তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি।

বিদ্রোহীদের তোপ ও মমতার প্রতি আনুগত্য

চলতি রাজনৈতিক সংকট নিয়ে বাবুল স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি সবসময় ‘দিদি’র পাশেই থাকবেন। সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরলেও রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে বাংলার জন্য নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করে যাবেন। এই চরম মুহূর্তে নেত্রীর পক্ষে সওয়াল করে তিনি মন্তব্য করেন, যাঁরা একসময় কাজ হাসিল করার জন্য আক্ষরিক অর্থেই নেত্রীর ‘চটি চাটতে’ প্রস্তুত ছিলেন এবং তৃণমূল জিতলে মন্ত্রী পদের জন্য তদ্বির করতেন, আজ তাঁদের দ্বারাই বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে হচ্ছে দিদিকে। পাশাপাশি তিনি যোগ করেন, জীবনে কোনও ভুল কাজ করেননি বলে ইডি, সিবিআই বা আয়কর দফতরকে বিন্দুমাত্র ভয় পান না তিনি।

তৃণমূলে যোগদানের নেপথ্য কাহিনী

নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা অজানা তথ্য তুলে ধরে বাবুল জানান, ২০২১ সালে বিজেপিতে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অন্যায় আচরণ করা হয়েছিল। ফলে তিনি দল ছেড়ে, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে গানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর দিল্লি ছাড়ার ঠিক দু’দিন আগে হঠাৎই তাঁর ফ্ল্যাটে হাজির হন ডেরেক ও’ব্রায়েন। ডেরেক তাঁকে জানান, আসানসোলে থমকে থাকা মেট্রো প্রকল্পের কাজ যেভাবে রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে বাবুল করিয়েছিলেন, তা দিদি পছন্দ করেছেন। দিদি চান না বাবুল রাজনীতি ছাড়ুন, বরং তৃণমূলে এসে বাংলার মানুষের কাজ করুন। গানে কোনও বাধা দেওয়া হবে না— এই শর্তেই তিনি ২০২১ সালের জুনে তৃণমূলে যোগ দেন।

ভিক্টোরিয়ার ঝালমুড়ি প্রসঙ্গ ও ক্ষোভ

অতীতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে মমতার সঙ্গে বিখ্যাত ‘ঝালমুড়ি পর্ব’ স্মরণ করে বাবুল জানান, সেই সাক্ষাতে দিদি তাঁকে মেট্রোর রুট পরিবর্তনের কারণ বুঝিয়েছিলেন। এরপর রেলমন্ত্রক থেকে নতুন রুটের জন্য ২০০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করান বাবুল। অথচ ২০২১ নির্বাচনের আগে আসানসোলের তৎকালীন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও কয়লা মাফিয়া রাজু ঝাকে বিজেপিতে মালা দিয়ে বরণ করা হয়েছিল, যা তাঁর জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল। দল ছাড়লেও বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সৌজন্য বজায় রেখেছেন বলে জানান তিনি।

ট্রোলারদের বিদায় জানিয়ে ফেসবুক অ্যাপ আনইনস্টল

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর জন্মতারিখ মিলে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বাবুল প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পোস্টের শেষে ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে রসিকতার সুরে বাবুল লিখেছেন, এই পোস্টে তিনি কাউকে কমেন্ট করার কোনও সুযোগ দিচ্ছেন না। আপাতত নিজের মোবাইল থেকে ফেসবুক অ্যাপটিই ডিলিট করে দিচ্ছেন তিনি। এখন থেকে তাঁর টিম কেবল তাঁর গান সংক্রান্ত পোস্ট করবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বাবুল সুপ্রিয়র এই পোস্ট বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের আবহে শাসক শিবিরের অন্দরে তাঁর অবস্থানকে যেমন মজবুত করল, তেমনই দলবদলু নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করল। তবে ফেসবুক অ্যাপ আনইনস্টল করার মাধ্যমে রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে আপাতত নিজেকে দূরে রাখার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই সাংসদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *