হরমুজ সংকটে ভারতের ভরসা কি ভেনেজুয়েলা, জ্বালানি তেল আমদানিতে নয়া দিগন্তের খোঁজে দিল্লি

হরমুজ সংকটে ভারতের ভরসা কি ভেনেজুয়েলা, জ্বালানি তেল আমদানিতে নয়া দিগন্তের খোঁজে দিল্লি

ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতেও জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ভারতকে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প পথ হিসেবে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলাকে বেছে নিচ্ছে নয়াদিল্লি। এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের ভারত সফর ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মূলত জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া সুরক্ষা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, খনিজাত দ্রব্য, ফার্মাসিউটিক্যাল, স্বাস্থ্য, পরিবহন এবং পুনর্নবিকরণ শক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিয়োগ নিয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে ফলপ্রসূ কথা হয়। ডেলসি রড্রিগেজ ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গেও তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে।

জ্বালানি আমদানিতে তৃতীয় স্থানে ভেনেজুয়েলা

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ ভেনেজুয়েলা বর্তমানে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে। বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক সপ্তাহে ভারতকে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভেনেজুয়েলা। চলতি বছরের শুরুতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেলসি রড্রিগেজ দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে এই সম্পর্ক আরও মজবুত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বড় ভূমিকা পালন করবে। শুধু তেল আমদানিই নয়, খনি ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ বিনিয়োগ ভারতীয় অর্থনীতির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এই বৈঠকের সুদূরপ্রসারী প্রভাবে ভারত তার দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *