জেলে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেলেন সুজিত বসু, সাধারণ বন্দিদের চেয়ে যেসব বাড়তি সুবিধা মিলছে
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন কর্তাবাক সুজিত বসু আইনি আবেদনের প্রেক্ষিতে অবশেষে প্রেসিডেন্সি জেলে প্রথম শ্রেণির বন্দির (ডিভিশন ওয়ান প্রিজনার) মর্যাদা পেয়েছেন। তাঁর সামাজিক অবস্থান, রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং বর্তমান শারীরিক অসুস্থতার কথা বিচার করেই আদালত ও জেল কর্তৃপক্ষ এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। ব্রিটিশ আমলে মূলত রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য এই বিশেষ মর্যাদার সূচনা হলেও, স্বাধীন ভারতেও বন্দির সামাজিক ও শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সুবিধা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
কারাগারে মিলবে বিশেষ আতিথেয়তা
প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে সুজিত বসু সাধারণ কয়েদিদের তুলনায় বেশ কিছু বাড়তি ও আরামদায়ক সুবিধা পাবেন। জেলের সাধারণ সেলের পরিবর্তে তাঁকে একটি সম্পূর্ণ আলাদা সেল দেওয়া হবে, যার সঙ্গে থাকবে অ্যাটাচড বাথরুমের সুবিধা। এছাড়া সেলে তাঁর ব্যবহারের জন্য থাকবে আলাদা খাট, টেবিল ফ্যান এবং মশারির ব্যবস্থা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস হিসেবে তিনি টুথপেস্ট ও ব্রাশ ব্যবহারের অনুমতি পাবেন, যেখানে সাধারণ কয়েদিরা জেলের নিয়ম অনুযায়ী কেবল গুঁড়ো মাজন পেয়ে থাকেন।
সবচেয়ে বড় সুবিধাটি থাকছে খাবারের ক্ষেত্রে। সুজিত বসুকে অন্য বন্দিদের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করতে হবে না। দিনে তিনবার তাঁর সেলে সরাসরি খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডায়েটের দিকেও বিশেষ নজর রাখা হবে। তবে এই সমস্ত সুবিধার পাশাপাশি সুরক্ষার স্বার্থে তাঁর সেলে সবসময় সিসিটিভি নজরদারি জারি থাকবে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনিভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার অভিযোগে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে এই মামলার অন্যান্য অভিযুক্ত যেমন শান্তনু সিংহ রায় বা জয় কামদারের আইনজীবীরাও প্রথম শ্রেণির বন্দির আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) তাতে লিখিত আপত্তি জানায়। সুজিত বসুর ক্ষেত্রে এই মর্যাদা পাওয়ার ঘটনাটি মামলার অন্য হাইপ্রোফাইল বন্দিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আইনি সুবিধা চাওয়ার পথ সুগম করতে পারে, যা আগামীদিনে আদালতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে।