দফতর বণ্টনের দিনই হঠাৎ দিল্লি ছুটছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তুঙ্গে জল্পনা!
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2024/02/suvendu-adhikari-2.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের পর আজ, শুক্রবারই বহুল প্রতীক্ষিত দফতর বণ্টন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াকে কার্যত থমকে দিয়ে সকাল ১১টার বিমানে হঠাৎ দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই তড়িঘড়ি রাজধানী সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, আজ রাতেই তাঁর কলকাতায় ফিরে আসার কথা রয়েছে।
নেপথ্যে কি তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আকস্মিক সফরের নেপথ্যে থাকতে পারে এক বড়সড় রাজনৈতিক চাল। রাজ্যে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ধস নেমেছে এবং ৫৮ জন বিধায়ক আলাদা ব্লক তৈরি করায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির চরম সংকটে। এই আবহে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এবার হয়তো তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরতে চলেছে। জোড়াফুলের সাংসদদের একটি অংশকে নিয়ে দিল্লিতে বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এই জরুরি যাত্রা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
প্রশাসনিক সমন্বয় ও বকেয়া উন্নয়ন
রাজনৈতিক চালের পাশাপাশি এই সফরের পেছনে গভীর প্রশাসনিক কারণও থাকতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এক নজিরবিহীন সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিপূর্বেই রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প কার্যকর হয়েছে এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন খাতে ৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ মিলেছে। আগামী শনিবারই নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর সঙ্গে আটকে থাকা রেল প্রকল্পগুলি নিয়ে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে এই ধারা বজায় রেখে রাজ্যের কোনো বড় অর্থনৈতিক বা পরিকাঠামো উন্নয়ন প্যাকেজ নিশ্চিত করতেও এই সফর হতে পারে।
চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা এই দিল্লি সফর স্রেফ সৌজন্যমূলক নয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দফতর বণ্টন পিছিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই আচমকা দিল্লি যাত্রার প্রকৃত কারণ এবং এর প্রভাব কী হতে চলেছে, তা আজ রাতে তাঁর কলকাতায় ফেরার পরই স্পষ্ট হবে।