অভিষেক-সায়নীতেই ভরসা অটুট মমতার, সাংগঠনিক রদবদলে বড় বার্তা তৃণমূলের

অভিষেক ও সায়নীতেই ভরসা মমতার, তৃণমূলে স্থিতাবস্থাই বার্তা
কলকাতার কালীঘাটে দলীয় নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে বড়সড় কোনো পরিবর্তনের পথে হাঁটলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের শেষে স্পষ্ট হয়ে গেল, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যুব সংগঠনের দায়িত্বে সায়নী ঘোষের ওপরই পূর্ণ আস্থা রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
পুরানো নেতৃত্বেই আস্থা শীর্ষ মহলের
কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর দলের অন্দরে জল্পনা দানা বেঁধেছিল যে, শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো বড় ধরনের রদবদল হতে পারে কি না। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দলের চেয়ারপার্সন পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বহাল থাকার পাশাপাশি অভিষেক ও সায়নীকে তাঁদের নিজ নিজ পদে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এছাড়া, সাংগঠনিক কাজে অভিষেককে সহায়তা করার জন্য ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং দলের ভেতর থেকে বিদ্রোহী বিধায়কদের সুর চড়ানোর মতো ঘটনার পর তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব কিছুটা হলেও চাপের মুখে ছিল। বিশেষ করে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের বিভিন্ন তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংকটের মুহূর্তে শীর্ষ নেতৃত্বে বড় কোনো পরিবর্তন না এনে তৃণমূল নেত্রী মূলত দলের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিতে চেয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাঁর বিশ্বস্ত বৃত্তে কোনো ভাঙন ধরেনি। এখন দলের কর্মী ও সমর্থকদের নজর নতুন জেলা, ব্লক এবং শাখা সংগঠনগুলোর নতুন কমিটির ঘোষণার দিকে।