কলকাতায় ববি জমানার অবসান, ফিরহাদের ইস্তফার পর ঋতব্রতের ফোনে কি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ?

কলকাতায় ববি জমানার অবসান, ফিরহাদের ইস্তফার পর ঋতব্রতের ফোনে কি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ?

কলকাতা পুরসভার মেয়রের চেয়ার থেকে ফিরহাদ হাকিমের নাটকীয় ইস্তফা পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর ববি হাকিমের এই প্রস্থানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের নতুন জল্পনা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। শুক্রবার পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরপরই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে এই জল্পনার আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরহাদের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনিক ক্ষমতার রদবদল এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কাজ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ক্ষমতাহীন মেয়রের সসম্মান প্রস্থান

ইস্তফার কারণ হিসেবে বিদায়ী মেয়র সরাসরি প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং নিজের অসহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন। ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পূর্বের মতো দাপটের সঙ্গে কাজ করা বা পুরবাসীদের সমস্যার সমাধান করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না। চেয়ারের সম্মানহানি রক্ষা করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। “ঢাল নেই, তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার” হয়ে ক্ষমতার অলিন্দে টিকে থাকার চেয়ে সসম্মানে বিদায় নেওয়াকে শ্রেয় মনে করেছেন কলকাতা বন্দরের এই প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়ক। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন ও সম্মতি নিয়েই তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং বিদায়বেলায় রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি পুরসভা স্বচ্ছভাবে চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ঋতব্রতের মন্তব্য এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

ফিরহাদের পদত্যাগের পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৮ সাল থেকে গড়ে ওঠা তাঁদের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। ববির দলবদলের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, “আজ রাতে বা কাল সকালে ওঁকে একবার ফোন করব”– ঋতব্রতের এই একটি বাক্যই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফিরহাদের এই ইস্তফা এবং ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল শিবিরে যোগদানের জল্পনা শাসক দলের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্যকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। কলকাতা পুরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে এই শূন্যতা যেমন নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক গতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে, তেমনই আগামী দিনে কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা ঋতব্রত-ফিরহাদের সম্ভাব্য কথোপকথনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *