বিদ্রোহীদের চাপে পিছু হটলেন না মমতা, তৃণমূলে ফের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক

বিদ্রোহীদের চাপে পিছু হটলেন না মমতা, তৃণমূলে ফের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ এবং ৫৮ জন বিধায়কের দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করার জেরে যখন রাজনৈতিক মহলে দল ভাঙার জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই কড়া পদক্ষেপ নিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত জল্পনা ও বিদ্রোহের আবহকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে দলের শীর্ষ সংগঠনে বড়সড় রদবদল ঘটাল ঘাসফুল শিবির। শুক্রবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে এই নতুন দলীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের পাল্টা চাল হিসেবে তৃণমূল নেতৃত্ব দলের পুরনো শাখা সংগঠনগুলি ভেঙে নতুন করে এই কমিটি সাজিয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিতির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শীর্ষ পদে অভিষেক, সংগঠনে বড় রদবদল

নতুন কমিটিতে বিদ্রোহীদের কোনো রকম রেয়াত না করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্বহাল রাখা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর সহযোগী হিসেবে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে রাজ্য সভাপতি পদে। সুব্রত বক্সীকে সরিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। সুব্রত বক্সীকে পাঠানো হয়েছে জাতীয় কর্মসমিতির সহ-সভাপতি পদে।

শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি পদ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে সেই জায়গায় আনা হয়েছে মলয় ঘটককে। যুব তৃণমূলের সভানেত্রী পদে সায়নী ঘোষ এবং মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী পদে মালা রায়কে পুনর্বহাল রাখা হয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাশ দেওয়া হয়েছে প্রিয়াঙ্কা চৌধুরীর হাতে। এছাড়া রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্য পদে একাধিক পুরনো ও নতুন মুখকে জায়গা দেওয়া হয়েছে।

সংঘাতের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

তৃণমূলের অন্দরে এই চরম ডামাডোলের মূল কারণ হলো ৫৮ জন বিধায়কের প্রকাশ্য বিদ্রোহ, যাঁরা দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই ঘটনার পর দলের রাশ নিজের হাতে রাখতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কঠোর সাংগঠনিক রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে মূল নেতৃত্বের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বপদে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, চাপের মুখে তিনি আপস করবেন না। তবে ৫৮ জন বিধায়ক যদি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন, তবে বিধানসভার অন্দরে এবং রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূল বড়সড় আইনি ও সাংগঠনিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে দল নিজের ভিত শক্ত করার চেষ্টা করলেও, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে জোড়াফুলের ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *