আপত্তিকর অবস্থায় স্ত্রীকে হাতেনাতে ধরলেন পুলিশ স্বামী, ব্যাপক চাঞ্চল্য!

আপত্তিকর অবস্থায় স্ত্রীকে হাতেনাতে ধরলেন পুলিশ স্বামী, ব্যাপক চাঞ্চল্য!

উত্তর প্রদেশের কুশীনগরে এক পুলিশ দম্পতির পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের কনস্টেবল স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরেছেন তাঁরই পুলিশকর্মী স্বামী। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তর প্রদেশ পুলিশ বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও স্বামীর অভিযোগ

ভুক্তভোগী পুলিশকর্মী জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বালিয়ার এক যুবতীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর তাঁর স্ত্রী মাত্র ৯ দিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। যেহেতু স্ত্রী নিজেও একজন কনস্টেবল, তাই তিনি দ্রুত নিজের ডিউটিতে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি কুশীনগরের কাসয়া থানায় কর্মরত আছেন।

স্বামীর অভিযোগ, তাঁর অজান্তেই তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সেভরহী থানায় কর্মরত অন্য এক কনস্টেবলের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি স্বামী যখন কাসয়া এলাকায় স্ত্রীর ভাড়া ঘরে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন স্ত্রী ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং বারবার বলা সত্ত্বেও দরজা খুলতে অস্বীকার করেন। ঘরের ভেতর অন্য কোনো পুরুষের উপস্থিতি সন্দেহ করে স্বামী সরাসরি ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। এরপর পুলিশ এসে দরজা খুললে ঘরের ভেতর দুজনকে অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

মারধর ও পুলিশের পদক্ষেপ

স্ত্রীকে অন্য সহকর্মীর সঙ্গে ওই অবস্থায় দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বামী। তিনি ঘটনাস্থলেই স্ত্রীর প্রেমিক কনস্টেবলকে মারধর করা শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা মাঝখানে পড়ে মাঝ-বচসা থামান এবং অভিযুক্ত প্রেমিককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। ভুক্তভোগী স্বামী জানিয়েছেন, এই চরম বিশ্বাসভঙ্গের পর তিনি এখন কেবল আইনি উপায়ে বিবাহবিচ্ছেদ চান।

পুলিশের বক্তব্য

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় থানা এবং পুলিশ মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পুরো বিষয়টির তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত নারী কনস্টেবল কাসয়া থানায়, তাঁর স্বামী পুলিশ লাইনে এবং স্ত্রীর প্রেমিক কনস্টেবল সেভরহী থানায় কর্মরত। ঘরের ভেতর অন্য যুবকের উপস্থিতির সন্দেহে স্বামী দরজা খোলার জেদ ধরায় এবং স্ত্রী বাধা দেওয়ায় এই ঝামেলার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতির রূপ নেয়। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *