দল বাঁচানোর মরিয়া লড়াই! স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার হাইকোর্টের দরজায় মমতা

দল বাঁচানোর মরিয়া লড়াই! স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার হাইকোর্টের দরজায় মমতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার এক নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের রূপ নিতে চলেছে। তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (LoP) হিসেবে রাজ্য বিধানসভার স্পিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত শাসক শিবিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্রোহী গোষ্ঠী বাড়তি রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে দলটিকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে—তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন আশঙ্কার মাঝেই এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী সোমবারই এই বিষয়ে আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হতে পারে।

কালীঘাটের বৈঠকে আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত

কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে স্পিকারের এই রুলিংকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্পিকারের মাধ্যমে বিরোধী দলনেতা নিয়োগের এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা সোমবারই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছি। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের ওপর বিজেপির মিথ্যা মামলা ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা রাস্তায় এবং আদালতে—উভয় জায়গাতেই লড়াই চালিয়ে যাব।”

ঋতব্রতর দাবি ও স্পিকারের রুলিং

সম্প্রতি সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়ে বিধানসভায় বিরোধী বেঞ্চের দাবি তোলেন। স্পিকার সেই দাবিকে স্বীকৃতি দিয়ে জানান, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অপর বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়াটি তৃণমূলের নিজস্ব দলীয় সংবিধান মেনে হয়নি, তাই তাদের বহিষ্কারাদেশ বৈধ নয়।

এর জবাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন, “তৃণমূল পরিষদীয় দলের ৫৮ জন বিধায়ক আমাদের সঙ্গে আছেন এবং আরও দুজন বিধায়ক খুব শীঘ্রই আমাদের শিবিরে যোগ দিতে পারেন। ফলে আমাদের শক্তি আরও বাড়বে।”

তৃণমূলের আইনি যুক্তি ও অস্তিত্বের সংকট

তৃণমূলের শীর্ষ আইনি ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব অবশ্য স্পিকারের এই ব্যাখ্যার তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের যুক্তি, দল থেকে বহিষ্কৃত কোনো সদস্যকে কখনোই প্রধান বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। হাইকোর্টে দায়ের হতে চলা পিটিশনে স্পিকারের এই আইনি ব্যাখ্যা এবং নিয়োগের বৈধতা—দুটোকেই চ্যালেঞ্জ করা হবে।

দলীয় সূত্রে খবর, একের পর এক বিধায়কের এই দলত্যাগ এবং স্পিকারের সাম্প্রতিক রুলিং ২৮ বছরের পুরোনো তৃণমূল কংগ্রেসকে এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দলের ভেতরের এই ভাঙন রুখতে এবং দলীয় রাশ বজায় রাখতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *