শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজ দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP-র বিক্ষোভ সমাবেশ! আন্দোলনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজ দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP-র বিক্ষোভ সমাবেশ! আন্দোলনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা

দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে আজ এক ব্যতিক্রমী ও বড়সড় রাজনৈতিক প্রতিবাদের সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আজ, ৬ জুন সকাল ৯টা থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষার ফলাফলে নানা অনিয়মের প্রতিবাদে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

আন্দোলনের মূল দাবি ও নেতৃত্ব

ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যা কোটি কোটি শিক্ষার্থীর মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নবনিযুক্ত প্রধান মুখপাত্র তথা অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাস, রাজনৈতিক গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া এবং আইআইটি-র প্রাক্তনী আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই আন্দোলন দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত। কোনো দলীয় ব্যানার ছাড়াই সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এতে যোগ দিতে পারবেন।

আন্দোলনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দলটির পক্ষ থেকে সমর্থকদের জন্য একগুচ্ছ করণীয় ও বর্জনীয় নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা বেশ নজর কেড়েছে।

যা করতে বলা হয়েছে

  • আজ সকাল ৯টার মধ্যে যন্তর মন্তরের কাছে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে সমবেত হতে হবে।
  • শিক্ষার অধিকার ও সমান সুযোগের প্রতীক হিসেবে প্রত্যেক আন্দোলনকারীকে সঙ্গে একটি করে জাতীয় পতাকা এবং বই রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
  • পুরো প্রতিবাদ কর্মসূচিটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও peaceful বা শান্তিপূর্ণভাবে ক্যামেরাবন্দি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  • কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা উসকানিমূলক আচরণ চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তা পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।
  • দিল্লির তীব্র গরম থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা, টুপি পরা এবং পর্যাপ্ত জল সাথে রাখার কথা বলা হয়েছে।

যা করা যাবে না

  • একা না এসে দলবদ্ধভাবে বা সপরিবারে আসার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে আন্দোলনের যৌথ শক্তি প্রকাশ পায়।
  • পুলিশকে লক্ষ্য করে ফুল ছোঁড়া যাবে না, বরং আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের হাতে সম্মান জানিয়ে ফুল তুলে দিতে হবে।
  • আন্দোলনের পরিবেশ নষ্ট করতে অনলাইনে বা অফলাইনে কোনো পেশাদার ট্রোল বা উসকানিদাতার ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।
  • খালি পেটে আন্দোলনে আসতে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। দলের স্পষ্ট বার্তা, বিপ্লবের জন্য প্রাতরাশ করা অত্যন্ত জরুরি।

‘একটি ছোট কৌতুককে এবার বিপ্লবে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে’—এমনই বার্তা দিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি দিল্লির রাজপথে শান্তিপূর্ণ ও ভালোবাসার মাধ্যমে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশও যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *