ফুল দিন পুলিশকে আর সঙ্গে রাখুন বই! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজ যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির মহামিছিল

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চরম নৈরাজ্য এবং নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো একাধিক দুর্নীতির প্রতিবাদে আজ দিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। এটিই তাদের প্রথম বড় মাপের রাজপথের আন্দোলন। তাদের প্রধান দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আজ সকাল ৮টায় আমেরিকা থেকে সরাসরি দিল্লিতে এসে পৌঁছবেন। এরপর পুলিশের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র জোগাড় করে সকাল ৯টা থেকে সংসদ মার্গ থানার কাছাকাছি যন্তর মন্তরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সিজেপি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এক কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নিট কেলেঙ্কারির পাশাপাশি সিবিএসই পরীক্ষার অনস্ক্রিন মার্কিং বা মূল্যায়ন সংক্রান্ত একাধিক অনিয়ম নিয়েও তারা সরব হয়েছে। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এবং বরুণ দাস এক ভিডিও বার্তায় জানান, গত এক মাসে অন্তত ছয়জন শিক্ষার্থী চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তাই তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অযোগ্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করে গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের জন্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিক্ষোভে আসার সময় প্রত্যেককে জাতীয় পতাকা এবং একটি বই সঙ্গে রাখতে হবে। পুলিশকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানাতে হবে এবং কোনো রকম ট্রোল বা প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না। একা না এসে দলবদ্ধভাবে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করলে অবিলম্বে তা ভিডিও করে দিল্লি পুলিশকে জানাতে হবে। এছাড়া রোদে সুস্থ থাকতে সানস্ক্রিন মাখা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং খালি পেটে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের স্পষ্ট বার্তা, বিপ্লবের জন্য প্রাতরাশ অত্যন্ত জরুরি।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এলাকায় প্রায় ১,০০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশের দাবি, তারা এখনও পর্যন্ত এই বিক্ষোভের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতির আবেদন পায়নি, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টের মাধ্যমেই তারা পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। সাধারণত যন্তর মন্তরের মতো জায়গায় বিক্ষোভের জন্য আগে থেকে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হয়।
ইতিমধ্যেই এই অরাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, প্রবীণ অভিনেতা প্রকাশ রাজ, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে, তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদের মতো ব্যক্তিত্বরা এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সোনম ওয়াংচুক সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে সবাইকে সজাগ থাকার এবং এই আন্দোলনকে ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন।