বিদ্রোহের পর বড় রদবদল! অভিষেকের ডানা ছাঁটলেন মমতা, দায়িত্ব পেলেন দোলা ও ডেরেক

বিদ্রোহের পর বড় রদবদল! অভিষেকের ডানা ছাঁটলেন মমতা, দায়িত্ব পেলেন দোলা ও ডেরেক

বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় এবং দলে ভয়াবহ বিদ্রোহের পর অবশেষে আত্মপক্ষ সমর্থন ও আত্মসমালোচনার পথে হাঁটল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সাংগঠনিক স্তরে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাটের জরুরি বৈঠকের পর এই ব্যাপক রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিষেকের দায়িত্ব ভাগ, সহযোগী হলেন দোলা ও ডেরেক

নির্বাচনী ব্যর্থতার পর দলের একাংশ নেতা ও বিধায়কদের প্রধান ক্ষোভ ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং নীচুতলার কর্মীদের সঙ্গে দূরত্বের বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তবে এই সমস্ত সমালোচনার মধ্যেও অভিষেককে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে সরাসরি চরম কোনো পদক্ষেপ নেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং তাঁর ওপর আস্থা বজায় রাখলেও কৌশলে তাঁর একক ক্ষমতা বা ডানা ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এতদিন দলের যে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতা মূলত অভিষেকের হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল, এবার সেখানে নতুন সহযোগী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আনা হয়েছে রাজ্যসভার দুই প্রবীণ সাংসদ দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিষেককে এখন থেকে এঁদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ করে নিতে হবে।

সুব্রত বক্সী অপসারিত, নতুন রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা

তৃণমূলের অন্দরে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে রাজ্য সভাপতি পদে। সুব্রত বক্সীকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন তৃণমূল রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক—দুই ক্ষেত্রেই চন্দ্রিমা অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং দলের বিশ্বস্ত মুখ হওয়ায় এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর হাতেই রাজ্যের রাশ তুলে দিলেন মমতা।

শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠনেও বড় কোপ

বিদ্রোহের আঁচ লেগেছে দলের অন্যান্য শাখা সংগঠনগুলোতেও। ইতিমধ্যেই বিধায়কদের নিয়ে বিদ্রোহ করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইএনটিটিইউসি (INTTUC) বা শ্রমিক সংগঠনের পদ থেকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে শ্রমিক সংগঠনের নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্যের অভিজ্ঞ মন্ত্রী মলয় ঘটক। অন্যদিকে ছাত্র সংগঠনেও বড় পরিবর্তন এনে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁর জায়গায় ছাত্র সমাজের নতুন মুখ করা হয়েছে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে। তবে যুব সংগঠনে সায়নী ঘোষ নিজের পদ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

মদন মিত্রের নতুন দায়িত্ব

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝে একটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার আলাদা করে হকার সংগঠনের স্বাধীন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা ও বিধানসভায় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ২৮ বছরের পুরোনো দলটিকে খণ্ড-বিখণ্ড হওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সুচতুর ও কঠোর সাংগঠনিক রদবদলের পথ বেছে নিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *