শ্মশানকর্মী থেকে কাটোয়ার পুর-মাতব্বর, বিধায়কের আশীর্বাদে দিগন্তের উত্থান ও পতন!

কাটোয়া শহরের রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে দিগন্ত পালের নাম। শ্মশানে মৃতদেহ গোনার সামান্য কাজ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কাটোয়া পুরসভার অন্যতম ক্ষমতাশালী ‘মাতব্বর’। সম্প্রতি এই প্রভাবশালীর গ্রেফতারির পর শহরের অন্দরে লুকিয়ে থাকা একের পর এক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার
সূত্রের খবর, দিগন্তের এই বিশাল উত্থানের নেপথ্যে প্রধান কারণ ছিল কাটোয়ার তৎকালীন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পূর্ণ সমর্থন ও আশীর্বাদ। বিধায়কের ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকেই পুরসভার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী—সকলেই তাঁকে প্রবল সমীহ করে চলতেন। এই রাজনৈতিক মদতকে কাজে লাগিয়েই বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি দখল এবং বালি ঘাটের ব্যবসার মতো একাধিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এছাড়া নিজেকে ‘সমাজসেবী’ হিসেবে তুলে ধরে আড়ালে একটি প্লাইউডের কারবারও ফেঁদে বসেন, যার আয়ের উৎস নিয়ে বর্তমানে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যাপক জনরোষ এবং সম্ভাব্য প্রভাব
দিগন্ত পালের এই লাগামহীন দুর্নীতির জেরে কাটোয়ার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শহরবাসীর একাংশ এখন ইডি বা আয়কর দফতরের মতো সংস্থার দ্বারা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে গড়ে ওঠা দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে পৌঁছাতে পারে। আগামী দিনে এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি কাটোয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় রদবদল ঘটাতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।