সুরুচি সঙ্ঘে ক্ষোভের আগুন! ক্লাবের বিলাসবহুল ঘরে মিলল রাজনৈতিক নথি ও দামি শাড়ি

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম নামজাদা দুর্গাপুজো ক্লাব সুরুচি সঙ্ঘে আচমকাই আছড়ে পড়ল তীব্র জনরোষ। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের নাম এই ক্লাবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। সম্প্রতি এই দুই প্রধান উদ্যোক্তা পুলিশের কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়ায় তাঁদের প্রভাব অনেকটাই খর্ব হয়েছে। আর এর পরপরই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটায় স্থানীয় জনতা। উত্তেজিত মানুষ ক্লাবের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
ক্লাবের অন্দরে চোখ ধাঁধানো বৈভব
সাধারণত যে ক্লাবকে মানুষ বর্ণাঢ্য পুজো ও সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে চেনে, তার অন্দরের এমন গোপন চিত্র দেখে হতবাক এলাকাবাসী। ক্লাবের উপরতলায় দেখা মিলেছে রীতিমতো বিলাসবহুল খাট, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আইফোন ও আইপ্যাডের প্যাকেট এবং প্রচুর দামি শাড়ি। স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, পাড়ার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের এই ক্লাবে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। বাইরে থেকে সাধারণ ক্লাব ঘর মনে হলেও উপরে উঠলেই দেখা যেত বিলাসবহুল জীবনযাপনের সমস্ত আয়োজন। সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব খাটিয়ে এই ঘরের আড়ালে একপ্রকার ‘মধুচন্দ্রিমা’ চলত বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
নথি ও বায়োডেটা ঘিরে ঘনীভূত রহস্য
বিলাসবহুল সামগ্রীর পাশাপাশি ক্লাবের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে পূর্ববর্তী পুরসভা নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একাধিক রাজনৈতিক নথি। শাসকদলের পোলিং এজেন্টদের গোপন নির্দেশিকা এবং ভোটার লিস্টের মতো নথিপত্র কীভাবে একটি ক্লাবের ভেতরে মজুত ছিল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া, সিনেপাড়ায় কাজের সুযোগ পেতে ইচ্ছুক একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীর বায়োডেটাও উদ্ধার হয়েছে এখান থেকে।
প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা একটি বিশ্বখ্যাত পুজো ক্লাবের এমন পরিণতি স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ক্লাবের আড়ালে বিনোদন জগত ও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির এই ঘটনা আগামী দিনে পুলিশি তদন্তের মোড় ঘোরাতে পারে এবং আরও বড় আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।