ভরাডুবির পর ঘুরে দাঁড়াতে বড় চমক, অভিষেকেই অটল মমতা
নির্বাচনী ভরাডুবি এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিপর্যস্ত তৃণমূল কংগ্রেস। দল ও সংগঠনের প্রতিটি স্তরে নেমে এসেছে অস্থিরতা। একদিকে ৫৮ জন বিধায়কের বিদ্রোহ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া, অন্যদিকে ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশনগুলোর আমূল পরিবর্তন—সব মিলিয়ে এক কঠিন সময় পার করছে ঘাসফুল শিবির। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের দলকে নতুন করে সাজালেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরই আস্থা রাখলেন তিনি।
নতুন সাজে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব
দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি বজায় থাকল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই। তবে তাঁর কাজের পরিধি ও চাপ সামলাতে এবার বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অভিষেককে সহায়তা করার জন্য দোলা সেন ও ডেরেক ও ব্রায়েনকে সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। রাজ্যের সংগঠনের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাঁধে, তিনি মনোনীত হয়েছেন তৃণমূলের পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি হিসেবে। দলের মহিলা শাখার সভানেত্রী পদে এসেছেন মালা রায় এবং যুব তৃণমূলের সভানেত্রী করা হয়েছে সায়নী ঘোষকে। এছাড়া ছাত্র পরিষদের হাল ধরেছেন প্রিয়াঙ্কা অধিকারী এবং আইএনটিটিইউসি-র নতুন সভাপতি হয়েছেন মলয় ঘটক। মুখপাত্র হিসেবে কুণাল ঘোষ এবং জাতীয় স্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও ব্রায়েনের দায়িত্ব অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আগামীর সমীকরণ
দলের অন্দরে বিদ্রোহ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মপদ্ধতি নিয়ে বড় অংশের ক্ষোভ থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহীরা যখন সুপ্রিমোর কাছে সরাসরি আনুগত্যের বার্তা দিয়ে অভিষেককে এড়িয়ে চলার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা মমতার সুদূরপ্রসারী কৌশলেরই অংশ। তৃণমূল নেত্রী স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, দলের ভাঙন রোধে তিনি তাঁর ঘোষিত উত্তরাধিকারীর ওপরই ভরসা রাখছেন। এই রদবদল দলকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা হলেও, বিদ্রোহীদের সাথে শীর্ষ নেতৃত্বের এই দূরত্ব অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।