বাংলায় পালাবদলের পরেই বিরাট সাফল্য, সন্দেশখালি ও বাসন্তীতে উদ্ধার অস্ত্রের পাহাড়!

বাংলায় পালাবদলের পরেই বিরাট সাফল্য, সন্দেশখালি ও বাসন্তীতে উদ্ধার অস্ত্রের পাহাড়!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় এক বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার একাধিক এলাকায় গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ উদ্ধার করেছে বাহিনী। অপরাধ দমনে সরকারের এই কঠোর অবস্থান রাজ্যজুড়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যৌথ অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধার

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এসটিএফের একটি দল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, কুমড়াখালির সরবেড়িয়া বাজার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়। এই অভিযানে বসিরহাট পুলিশ জেলা ও স্থানীয় থানা পুলিশ সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। যৌথ বাহিনীর এই আকস্মিক অভিযানে বিভিন্ন গোপন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বন্দুক, পিস্তল ও তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়, যা অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই অঞ্চলে শান্তি বিঘ্নিত করা এবং বড় ধরনের কোনো সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্রগুলো মজুত করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস কী এবং এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের পেছনে কোন বড় নেটওয়ার্ক কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এই সফল অভিযানের ফলে বড় ধরনের কোনো অপরাধমূলক পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলগুলোতে অপরাধীদের মনোবল ভেঙে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘কালো দিন শেষ’ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

এসটিএফের এই বিশাল সাফল্যে রাজ্য পুলিশের তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি), এসটিএফ টিম এবং বসিরহাট পুলিশ জেলার কর্মীদের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যেই এই অবৈধ মারণাস্ত্র মজুত করা হয়েছিল, যা সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে।

পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের শাসন আমলে সাধারণ নাগরিকদের ভয় দেখানোর জন্য এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের, বিশেষ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো বিজেপি কর্মীদের দমনের উদ্দেশ্যে এই ধরনের অবৈধ অস্ত্র জমা করা হতো। তবে সেই ‘কালো দিন’ এখন অতীত। রাজ্যে রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ অবসান ঘটিয়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *