শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ডেডলাইন পার, দেশজুড়ে বড় আন্দোলনের ডাক আরশোলাদের

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ডেডলাইন পার, দেশজুড়ে বড় আন্দোলনের ডাক আরশোলাদের

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হতেই উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দেশজুড়ে লাগাতার পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দেওয়া শনিবার বিকেল ৫টার আলটিমেটাম সরকার উপেক্ষা করায়, এখন দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

শিক্ষাব্যবস্থায় ধস ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক অস্থিরতাই এই প্রতিবাদের মূল কারণ। বিশেষ করে NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই বোর্ডের ওএসএম মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে সিজেপি। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার প্রতিবাদে তারা দিল্লির যন্তর মন্তরে শক্তিশালী সমাবেশের আয়োজন করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আইনি জটিলতায় নতুন মোড়

আন্দোলন দানা বাঁধার সাথে সাথেই সিজেপির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচির পরপরই সংগঠনটির বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা এবং বিদেশি অর্থায়নের মতো গুরুতর অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছে সিজেপি নেতৃত্ব।

এই সংঘাতের ফলে একদিকে যেমন শিক্ষামন্ত্রীর দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে সিজেপির বিরুদ্ধে আনা আইনি পদক্ষেপ আন্দোলনের মোড় কোন দিকে ঘোরায়, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। আগামী সপ্তাহে দিল্লি থেকে শুরু করে ভারতের বিভিন্ন বড় শহরে আন্দোলনের যে রূপরেখা সিজেপি তৈরি করেছে, তা সরকারের অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার বিষয়, আইনি চাপের মুখে এই আন্দোলন কতটা গতি পায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *