রেল পরিকাঠামোয় বড় ঘোষণা: রাজ্যে তৈরি হবে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

রেল পরিকাঠামোয় বড় ঘোষণা: রাজ্যে তৈরি হবে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের মধ্যে নবান্নে আয়োজিত সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি রাজ্যের পরিবহণ পরিকাঠামোয় এক বড় পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের যৌথ সাংবাদিক বৈঠক থেকে উঠে আসা প্রধান দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:

রেল পরিকাঠামোয় বড় ঘোষণা: অমৃত ভারত স্টেশন ও বুলেট ট্রেন

শনিবার নবান্নে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার ও রেলমন্ত্রকের মধ্যে সুসমন্বয় বজায় থাকবে, যার ফলে রাজ্যের রেলপ্রকল্পগুলি এখন নতুন গতি পাবে।

প্রধান ঘোষণাগুলি:

  • ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন: রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্যে আরও ১০২টি নতুন ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলির পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
  • ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস: রেললাইনের ওপর যানজট নিরসনে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্যে ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য ইতিমধ্যে ৪০টিরও বেশি এনওসি (NOC) প্রদান করেছে।
  • বুলেট ট্রেন পরিষেবা: কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংকল্প অনুযায়ী দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালু হবে। এই ট্রেনটি দিল্লি, লখনউ, বারাণসী ও পাটনা হয়ে শিলিগুড়িতে পৌঁছাবে, যার ফলে মাত্র ৬ ঘণ্টায় রাজধানী থেকে উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
  • ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর: ইস্ট থেকে ওয়েস্ট ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে, যা ডানকুনি থেকে সুরাত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর ফলে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে বাংলার গুরুত্ব আরও বাড়বে।

আর্থিক বরাদ্দ ও প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি:

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান যে, ইউপিএ জমানার তুলনায় বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার রেলের উন্নয়নে বাংলাকে বহুগুণ বেশি অর্থ প্রদান করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রেল থেকে বাংলা ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আগের সরকারের অসহযোগিতার ফলে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ থমকে গিয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সমন্বয়ে সেই বাধা দূর হয়েছে।

এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং বাংলার মানুষ আধুনিক রেল পরিষেবা ও উন্নত পরিকাঠামোর সুফল পাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *