বিশ্বাস ভাইদের অবিশ্বাস্য কীর্তি, এলআইসির জমি জবরদখল করে গড়ে উঠল সুরুচি সংঘ

রাজ্যের প্রভাবশালী বিশ্বাস ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে এবার উঠল এলআইসির জমি জবরদখলের গুরুতর অভিযোগ। দীর্ঘ সময় ধরে বিমা সংস্থার ২১ কাঠা জমি বেআইনিভাবে দখল করে সেখানে সুরুচি সংঘের ক্লাবঘর ও দুর্গাপুজোর আয়োজন করার অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে শনিবার শেষপর্যন্ত আলিপুর থানার দ্বারস্থ হলেন এলআইসির পদস্থ আধিকারিকরা।
জবরদখল ও অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ
অভিযোগ, এলআইসির মালিকানাধীন ওই জমিতে রীতিমতো প্রাচীর দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে তিনতলা বিশিষ্ট ক্লাব ভবন। বিমা সংস্থার দাবি, এই জমিতে গড়ে তোলা অবকাঠামো সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর মধ্যে একাধিক বেডরুমও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি উদ্ধারের জন্য আইনি লড়াই চালিয়েও বিফল হতে হয়েছে এলআইসিকে। বর্তমানে বিশ্বাস ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় এবং স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। এর ফলে জনপ্রিয় সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকারি সরঞ্জামের হদিশ ও চাঞ্চল্য
ক্লাবটিকে কেন্দ্র করে কেবল জমি জবরদখলই নয়, বরং সরকারি সম্পদ লোপাটের অভিযোগও উঠছে। তল্লাশিতে ওই ক্লাব প্রাঙ্গণে রাশি রাশি সরকারি জল ‘প্রাণধারা’র বোতল এবং ত্রাণ বিতরণের শাড়ি উদ্ধার হয়েছে। সরকারি জিনিসপত্র ঘুরপথে ক্লাবে মজুত করার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বেআইনি নির্মাণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এই অভিযোগগুলি সামনে আসার পর পুলিশি পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিমা সংস্থার আধিকারিকরা এখন পুলিশের হস্তক্ষেপে জমি ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।