এনআইএর জালে শওকত মোল্লা, ভাঙড়ে ডিজে বাজিয়ে উদ্দাম নাচ আর মিষ্টি মুখের ধুম!

এনআইএর জালে শওকত মোল্লা, ভাঙড়ে ডিজে বাজিয়ে উদ্দাম নাচ আর মিষ্টি মুখের ধুম!

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) হাতে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার গ্রেপ্তারির পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। শুক্রবার রাতে এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শনিবার সকাল থেকে ভাঙড়ের রাস্তায় নেমে আসেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) কর্মী-সমর্থকরা। ডিজে বাজিয়ে নাচ, আবির খেলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিলির মাধ্যমে এলাকায় যেন এক অকাল হোলির উৎসব শুরু হয়েছে। একসময়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বর্তমান আইএসএফ নেতা আরাবুল ইসলামকে নিজে হাতে সাধারণ মানুষের মুখ মিষ্টি করাতে দেখা গেছে।

বিস্ফোরণ কাণ্ডে যোগসূত্র ও গ্রেপ্তারের মূল কারণ

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ে ঘটে যাওয়া একটি স্পর্শকাতর বিস্ফোরণ কাণ্ডে শওকত মোল্লাই ছিলেন মূল সন্দেহভাজন। দীর্ঘ তদন্তের পর এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ায় শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার সকালে এনআইএ-র পক্ষ থেকে জারি করা একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই মামলার বিস্তারিত তথ্য ও শওকতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। তৃণমূল জমানায় ভাঙড় ও ক্যানিং এলাকায় অন্যতম শেষ কথা হিসেবে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে অতীতেও বুথ দখল, ভোটারদের ওপর অত্যাচার এবং একাধিক সহিংসতার অভিযোগ তুলেছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও অঞ্চলে সম্ভাব্য প্রভাব

শওকত মোল্লার এই গ্রেপ্তারির ফলে ভাঙড় ও ক্যানিং অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। একসময় তৃণমূলের দাপুটে নেতা এবং বর্তমানে আইএসএফের হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আরাবুল ইসলাম এই গ্রেপ্তারিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রভাবশালী নেতার অনুপস্থিতিতে ওই অঞ্চলে শাসক দল বড়সড় সাংগঠনিক ধাক্কা খেতে পারে। একই সঙ্গে, দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা হয়ে থাকা বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে আইএসএফ, ভাঙড়ের মাটিতে তাদের রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার করার নতুন সুযোগ পাবে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের পর সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ আগামী দিনে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *