সরকারের ঘুম ওড়ালো জেন জি, যন্তরমন্তরে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভে নজিরবিহীন নিরাপত্তা শাহের পুলিশের

দিল্লির হাই-প্রোফাইল যন্তরমন্তরে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল দেশ। সমস্ত আশঙ্কা ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় বিক্ষোভ সমাবেশ করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। নিট (NEET) ও সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষার মতো একাধিক ইস্যুতে শিক্ষা ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া অব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুব সমাজের এই ক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী। গ্রেপ্তারির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে খোদ সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করেছেন ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর কতদিন চলবে হিন্দু-মুসলমানের এই রাজনীতি?
সরকারের কৌশলগত পিছুটান ও নিরাপত্তার সমীকরণ
অভিজিৎ দীপকে দেশে পা রাখলে গ্রেপ্তার হতে পারেন—এমন জল্পনা চললেও, বাস্তবে দেখা গেল উল্টো ছবি। দিল্লি পুলিশ কেবল বিক্ষোভের অনুমতিই দেয়নি, বরং কোনো রকম অশান্তি এড়াতে কড়া নিরাপত্তার বলয় তৈরি করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিট ও সিবিএসই কেলেঙ্কারি নিয়ে কেন্দ্র এমনিতেই কোণঠাসা। তার ওপর খাতায়-কলমে অpolitical হলেও জনপ্রিয়তার নিরিখে এই ‘পার্টি’ দেশের বড় দলগুলোকে টেক্কা দিচ্ছে। এই যুব বা ‘জেন জি’ (Gen Z) প্রজন্মের ওপর কোনো রকম পুলিশি বলপ্রয়োগ করলে দেশজুড়ে ছাত্র ক্ষোভ আরও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ত। মূলত সেই ক্ষোভের আগুন থামাতেই এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই সরকারকে এই কৌশলগত অবস্থান নিতে হয়েছে।
অরাজনৈতিক মঞ্চে রাজনীতির রং ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
ককরোচ পার্টির সমর্থকরা নিজেদের অরাজনৈতিক ও স্বতন্ত্র দাবি করলেও, মঙ্গলবারের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। যন্তরমন্তরের সমাবেশ চত্বরে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA) এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI)-র মতো বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের প্রথম সারির সদস্যদের উপস্থিতি স্পষ্ট দেখা গেছে। পাশাপাশি আম আদমি পার্টি (AAP)-র একাংশ এবং প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই বিক্ষোভে শামিল হন। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা শশী থারুরও এই আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দলের পোস্ট নিষিদ্ধ বা ডিলিট করে যুব সমাজের কণ্ঠরোধ করার যে চেষ্টা চলছিল, এই সমাবেশ তার বিরুদ্ধে একটি বড় ধাক্কা। এই ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও কর্মসংস্থানের দাবিতে যুব সম্প্রদায়ের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াবে এবং জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।