পুলিশের কাজে বাধা থেকে ধর্ষণের চেষ্টা, আরও ঘোর বিপাকে প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার!

পুলিশের কাজে বাধা থেকে ধর্ষণের চেষ্টা, আরও ঘোর বিপাকে প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার!

প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের আইনি জটিলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমে পুলিশের কাজে বাধা এবং তোলাবাজির অভিযোগ, আর এবার সরাসরি শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হল তাঁর নামে। শুক্রবার চুঁচুড়া আদালতে তোলা হলে তাঁর জামিন নামঞ্জুর হয় এবং নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একের পর এক মামলায় বিদ্ধ প্রাক্তন বিধায়ক

গত ৩০ মে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থার প্রতিবাদে চুঁচুড়ায় পথ অবরোধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অসিত মজুমদার। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে বচসা ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে সহ দশজনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্যরা জামিন পেলেও অসিত মজুমদার, চুঁচুড়ার ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা ও তৃণমূল নেতা মির্জা সানোয়ার আলির বিরুদ্ধে নতুন করে তোলাবাজির মামলা যুক্ত হওয়ায় তাঁদের জেল হেফাজত হয়। শুক্রবার আদালতে তোলাবাজির মামলায় পার্থ ও মির্জা জামিন পেলেও অসিত মজুমদারের স্বস্তি মেলেনি।

নতুন অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে চুঁচুড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক যুবতীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন এই বিধায়কের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার নয়া মামলা যুক্ত হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের কারণেই তাঁকে পুনরায় ১৪ দিনের জন্য জেলে পাঠিয়েছে আদালত। আগামী ১৯ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে ওঠা এমন পর্যায়ক্রমিক অভিযোগ স্থানীয় এবং রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এর ফলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যেমন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, তেমনই এই ঘটনা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যা দলের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জেলে যাওয়ার পথে প্রাক্তন বিধায়ক অবশ্য জানিয়েছেন, ঈশ্বর ও দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *