অনলাইন পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করার পথে সুপ্রিম কোর্ট!

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অশ্লীল বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুপযুক্ত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে বড়সড় প্রস্তাব দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানিয়েছে, মোবাইল বা ইন্টারনেটে অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্টের অবাধ প্রবাহ রোধে ভিডিও চালুর আগে আধার নম্বরের মাধ্যমে বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালতের মতে, বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রুখতে এই প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অশ্লীলতা রোধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত
বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমানে মোবাইল খুললেই অনায়াসে অশ্লীল কনটেন্ট সামনে চলে আসে, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। বই বা শিল্পকর্মের মতো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকলেও ডিজিটাল দুনিয়ায় এই সুরক্ষা প্রায় অনুপস্থিত। আদালত কেবল আধার ভিত্তিক বয়সের বাধ্যবাধকতা নয়, বরং কন্টেন্ট নির্মাতাদের দায়বদ্ধতা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে। একটি নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে আদালত মন্তব্য করেছে, কেবল স্ব-নিয়ন্ত্রিত সংস্থার ওপর ভরসা করাটা এখনকার বাস্তবতায় কঠিন, কারণ বিতর্কিত কন্টেন্ট প্রকাশের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন
এই শুনানির সূত্রপাত হয়েছে বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কিছু ইনফ্লুয়েন্সার ও স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের বিদ্রুপাত্মক আচরণের অভিযোগ থেকে। আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, শারীরিক বা জিনগত প্রতিবন্ধকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অপমান বা বিদ্রুপকে কঠোর অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মতো আইন তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। তফসিলি জাতি-জনজাতিদের সুরক্ষা দেওয়ার মতো একই রকম কঠোর আইন প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রেও কেন থাকবে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা। সলিসিটার জেনারেলের উপস্থিতিতে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাকস্বাধীনতা কখনোই বিকৃত রুচির প্রকাশের লাইসেন্স হতে পারে না। এখন দেখার বিষয়, আদালত ও সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে।