মদ আর মাংসের আড়ালে চলত যৌন লালসা! গ্রেপ্তার ভণ্ড তান্ত্রিক

মুম্বইয়ের মালাড এলাকায় আধ্যাত্মিক সাধনার নামে এক ভয়াবহ প্রতারণার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল ঋদম পাঞ্চাল ওরফে ‘মন্টি বাবা’। জিম ট্রেইনার থেকে রাতারাতি ‘গডম্যান’ সেজে বসা এই ব্যক্তির অন্ধকার জগতের পর্দাফাঁস করেছে দিণ্ডোশি থানার পুলিশ। দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা এই প্রতারণা চক্রের শিকার হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ। নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান লাভের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ঝাড়ফুঁকের ভয়ের ভয় দেখিয়ে তিনি বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছেন।
আধ্যাত্মিকতার আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণা
তদন্তে উঠে এসেছে, মালাড ইস্টের একটি নির্জন জায়গায় প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার গভীর রাতে মন্টি বাবা তার ‘দরবার’ বসাতেন। অঘোরী তান্ত্রিকের বেশে মুখে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে তিনি অভিনয় করতেন যে, তাঁর শরীরে দেবী ভর করেছে। এই অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে অসহায় মানুষজন যখন সমাধানের আশায় আসতেন, তখন শুরু হতো আসল শোষণ। সেবার বিনিময়ে তিনি কেবল অর্থ নয়, দাবি করতেন দামী মদ, সিগারেট এবং জ্যান্ত মুরগি ও খাসির কলজে। যারা তাঁর এই অশুভ আবদার মানতে অস্বীকার করতেন, তাদের ওপর নেমে আসত মন্টি বাবার পোষা গুন্ডাদের অত্যাচার। আধ্যাত্মিকতার নামে শারীরিক ও মানসিক শোষণের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রাক্তন কর্পোরেটর ও আইনজীবী সিদ্ধার্থ শর্মার কাছে মন্টি বাবার যৌন শোষণ ও আর্থিক প্রতারণার কাহিনী তুলে ধরেন। এরপরই পুলিশের জালে ধরা পড়ে এই ভণ্ড তান্ত্রিক। পুলিশ জানিয়েছে, মন্টি বাবার কোনো আধ্যাত্মিক ক্ষমতাই নেই, তিনি মূলত নেশার ঘোরে অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষকে বশ করতেন। বর্তমানে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কার বিরোধী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ভণ্ডদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ধৃতকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।