বিশ্ববাজারে অস্থিরতা রুখতে মরিয়া মোদী সরকার! ভারতের অর্থনীতি বাঁচাতে নড়েচড়ে বসলেন প্রধানমন্ত্রী

গোটা বিশ্বে যখন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা চরম আকার ধারণ করেছে, তখন ভারতের মজবুত আর্থিক অবস্থান নিশ্চিত করতে জরুরি বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের আর্থিক বৃদ্ধিকে গতিশীল করার নতুন কৌশল ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে, তা থেকে ভারতকে রক্ষা করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সংস্কার ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ নজর
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসা সহজীকরণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশ্ব পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কীভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় এবং আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্পের দিকে ঝুঁকে অর্থনীতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা যায়, তা নিয়েই মূলত বিশদ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয়ে গণপরিবহণ ব্যবহার, ইলেকট্রিক গাড়ির প্রসার এবং স্বদেশী পণ্য গ্রহণের মতো একাধিক জনসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেবে।
জিডিপির উর্ধ্বমুখী ধারা ও প্রত্যাশা
বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির চিত্রটি বেশ আশাব্যঞ্জক। ৫ জুন প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে পুরো অর্থবর্ষের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৭ শতাংশ। সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি সেক্টরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই মূলত এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। সরকারি তথ্য বলছে, কৃষি ও মৎস্যচাষ ভিত্তিক প্রাথমিক সেক্টরও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জানান দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ এই শক্তিশালী ভিত্তিকে পুঁজি করেই বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী ভারত।