দিল্লির রাজপথে তীব্র ক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অভিনব ‘আরশোলা’ আন্দোলন

দিল্লির যন্তর মন্তরে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক বিক্ষোভের সাক্ষী হলো দেশের রাজধানী। NEET ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই (CBSE)-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) সিস্টেমে দুর্নীতির অভিযোগে সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে রাস্তায় নামল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। শনিবার দুপুরের এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও উত্তাল যন্তর মন্তর
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ব্যনারে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। সম্প্রতি দেশজুড়ে হওয়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রবেশিকা পরীক্ষা বা NEET-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই-র খাতা দেখার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় বড়সড় অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই দুই ঘটনার ফলে লাখ লাখ যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আন্দোলনের সময় পরিস্থিতি রীতিমতো উত্তাল হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্ব পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন।
‘লিক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিক্ষোভের মূল আকর্ষণ ছিল আন্দোলনকারীদের দেওয়া স্লোগান। যন্তর মন্তর চত্বর কাঁপিয়ে তারা বলতে থাকেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দাও। আমরা চেয়েছিলাম ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, আপনি দিলেন ‘লিক ইন ইন্ডিয়া’।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকী আন্দোলন সরকারের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। দেশজুড়ে চলমান শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, এই ঘটনার পর তা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং মূল্যায়নে দুর্নীতির কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বস্ততাও বড়সড় সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।