সৌরভের বোঝানোও ব্যর্থ, বহরমপুর ছাড়তে মমতাকে স্পষ্ট ‘না’ ইউসুফ পাঠানের!

সৌরভের বোঝানোও ব্যর্থ, বহরমপুর ছাড়তে মমতাকে স্পষ্ট ‘না’ ইউসুফ পাঠানের!

লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে নিজের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে এক মরিয়া চাল চেলেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিকল্পনা ছিল, বহরমপুর আসন থেকে উপনির্বাচনে জিতে সরাসরি সংসদে প্রবেশ করা। কিন্তু দলেরই তারকা সাংসদ ইউসুফ পাঠানের অনড় অবস্থানে সেই পরিকল্পনা এখন বিশ বাঁও জলে। এমনকি খোদ ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীকে দিয়েও পাঠানকে রাজি করানো সম্ভব হয়নি বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন।

বহরমপুর কেন ছিল মমতার পাখির চোখ?

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শদাতারা তাঁকে সংসদে যাওয়ার পরামর্শ দেন। দিল্লির রাজনীতিতে ফের নিজের অবস্থান মজবুত করতে নিরাপদ আসন হিসেবে বহরমপুরকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে ৮৫,০২২ ভোটে হারিয়ে এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন ইউসুফ পাঠান। মমতা ভেবেছিলেন, পাঠানকে পদত্যাগ করিয়ে সেখানে নিজে দাঁড়িয়ে উপনির্বাচনে জয় নিশ্চিত করবেন। কিন্তু এই ছক বাস্তবায়নের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেলেন তিনি।

‘মানুষের আস্থার অবমাননা করব না’, অনড় পাঠান

সূত্রের খবর, মমতার এই প্রস্তাব পাওয়ার পর সোজা ‘না’ করে দিয়েছেন প্রাক্তন এই ভারতীয় অলরাউন্ডার। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য:

  • বহরমপুরের মানুষ তাঁকে ভালোবেসে এবং ভরসা করে ভোট দিয়েছেন।
  • মাত্র দুই বছরের মাথায় কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য পদত্যাগ করে তিনি ভোটারদের বিশ্বাসের অবমাননা করতে পারবেন না।

বহরমপুরের মানুষের দেওয়া আমানত রক্ষা করাই ইউসুফ পাঠানের প্রথম অগ্রাধিকার, কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ নয়।

সৌরভের মধ্যস্থতাও ব্যর্থ

ইউসুফ পাঠানকে বোঝাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সরাসরি ময়দানে নামেননি। বরং তিনি শরণাপন্ন হয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর। উদ্দেশ্য ছিল, ক্রিকেটীয় সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে পাঠানকে পদত্যাগের জন্য রাজি করানো। কিন্তু অন্দরের খবর, সৌরভের সমস্ত চেষ্টা, যুক্তি এবং অনুরোধ সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে একচুলও নড়েননি বহরমপুরের সাংসদ।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল কি আরও চওড়া হচ্ছে?

এই ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলমান রাজনৈতিক তোলপাড়কে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। দলের ভেতরে কারা মমতার পক্ষে আর কারা সুযোগ বুঝে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, তা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেই এখন ধন্দে। ২০২৪-এর ঢাকঢোল পেটানো জয়ের পর ২০২৬-এর এই বর্তমান পরিস্থিতিতে দলেরই মনোনীত সাংসদের এমন ‘বিদ্রোহী’ মনোভাব আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং শৃঙ্খলাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *