তৃণমূলের ‘একলা চলো’ নীতি, কি মুখ থুবড়ে পড়ছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট? সুবিধা পাচ্ছে কি বিজেপি?

লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে বিজেপি-বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। নরেন্দ্র মোদী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার একক লক্ষ্য নিয়ে যে জোটের পথচলা শুরু হয়েছিল, তা এখন শরিকদলগুলোর নিজস্ব অন্তর্কোন্দলে ক্ষতবিক্ষত। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জোটের অন্দরের ফাটল আর আড়ালে নেই, বরং তা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।
তৃণমূলের ‘একলা চলো’ নীতি ও কোণঠাসা দশা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান জোটের ঐক্যের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একের পর এক বিতর্ক এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে তৃণমূল নিজেই এখন বেশ কোণঠাসা। এই ‘আত্মঘাতী’ দশা থেকে বাঁচতে তারা রাজ্যে ‘একলা চলো’ নীতি আঁকড়ে ধরছে, যা জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্যের ধারণাকে কার্যত চূর্ণ করে দিচ্ছে।
প্রকাশ্যে সিপিএম-কংগ্রেসের তীব্র সংঘাত
জোটের অন্যতম প্রধান শরিক কংগ্রেসের কর্মপদ্ধতি ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বাম শিবিরের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। সম্প্রতি কংগ্রেস নেতৃত্বকে লেখা সিপিএমের একটি ‘কড়া’ চিঠি সেই ক্ষোভকে প্রকাশ্যে এনেছে। আসন সমঝোতা থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী বিষয়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই দলের দূরত্ব এখন স্পষ্ট। নির্বাচনের মুখে এই প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি জোটের সামগ্রিক নির্ভরযোগ্যতাকেই সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ডিএমকে-র বৈঠক বয়কট এবং দক্ষিণি সমীকরণ
ফাটল কেবল উত্তর বা পূর্বাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ ভারতেও। বিরোধী শিবিরের অন্যতম চালিকাশক্তি তামিলনাড়ুর ডিএমকে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের তীব্র অস্বস্তি লুকাতে পারছে না। আগামী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ডিএমকে-র মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক দলের এই দূরত্ব বজায় রাখার নীতি জোটের জাতীয় সমীকরণে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের চোখ, সুবিধা পাচ্ছে কি বিজেপি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মূল সমস্যা হলো সঠিক সমন্বয়হীনতা এবং শরিকদের ব্যক্তিস্বার্থের লড়াই। আদর্শগত মিলের চেয়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতেই বেশি ব্যস্ত দলগুলো।
দিল্লি থেকে রাজ্য—সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা, বিরোধী শিবিরের এই চরম গৃহযুদ্ধ ও ফাটল কি আগামী দিনে বিজেপিকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে? শরিকরা যদি নিজেদের অহংকার ও ক্ষোভ ভুলে দ্রুত এক টেবিলে না বসে, তবে এই জোটের ভবিষ্যৎ কার্যত অন্ধকারাচ্ছন্ন।