অভিষেকের ক্ষমতা খর্ব করলেন মমতা! নেপথ্যে কি গ্রেফতারির আশঙ্কা?
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2024/03/Mamata-Abhishek_f46934.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এক নতুন সমীকরণ। দলে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহাল রাখলেও তাঁর ক্ষমতা অনেকটাই কমিয়ে দিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের পাশাপাশি দলের দুই বর্ষীয়ান সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। দলের এই শীর্ষ স্তরের রদবদল ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
দলের অন্দরে ক্ষোভ ও রদবদল
সাম্প্রতিক নির্বাচনের ভরাডুবির পর তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক, পরাজিত প্রার্থী থেকে শুরু করে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই দলের এই পতনের জন্য সরাসরি তাঁকেই দায়ী করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে মানলেও অভিষেককে মেনে নিতে নারাজ দলের একটি বড় অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবল অন্তর্দ্বন্দ্ব সামাল দিতে এবং একক ক্ষমতার রাশ টানতেই ডেরেক ও দোলার মতো বর্ষীয়ান নেতাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
গ্রেফতারির শঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনী ব্যর্থতার পাশাপাশি অভিষেকের ক্ষমতা খর্ব করার নেপথ্যে তাঁর গ্রেফতারির আশঙ্কাকেই অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল। সম্প্রতি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের বাড়িতে ইডি-র নোটিস, কয়লা পাচার-কাণ্ডে পুরনো হাজিরা এবং কলকাতা পুরনিগমের তরফে তাঁর বাসভবনের নির্মাণের বৈধতা নিয়ে দফায় দফায় পাঠানো নোটিস পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। দলীয় নেতৃত্বের আশঙ্কা, তদন্তকারী সংস্থার এই লাগাতার চাপের মুখে যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এই সম্ভাব্য আইনি সংকটের কথা মাথায় রেখেই দলের কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, তার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের অন্দরে সাংগঠনিক ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং অভিষেকের অনুপস্থিতিতেও দলের কাজ স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।