‘শিক্ষক নন, মাফিয়া’! গুলিকাণ্ডে বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম আইনি জালে খান স্যার

‘শিক্ষক নন, মাফিয়া’! গুলিকাণ্ডে বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম আইনি জালে খান স্যার

পাটনার জনপ্রিয় শিক্ষক তথা ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা খান স্যার বর্তমানে এক চরম আইনি সংকটের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি পাটনার মুসাল্লাপুর হাটে তাঁর কোচিং সেন্টারে ভাঙচুর এবং নিরাপত্তারক্ষীদের পালটা গুলি চালানোর ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে তাঁর দুই নিরাপত্তারক্ষী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং প্রতিষ্ঠান ‘জ্ঞান বিন্দু’-র পরিচালক রোশন আনন্দকে গ্রেপ্তার করেছে। মূলত কোচিং প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। পুলিশের তদন্তে নাম জড়ানোয় এখন খোদ খান স্যারের গ্রেপ্তারি নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

গ্রামবাসীদের ক্ষোভ ও চাচার বিস্ফোরক অভিযোগ

এই আইনি টানাপোড়েনের মাঝেই খান স্যারের নিজ গ্রাম উত্তরপ্রদেশের ভাটপরানির বাসিন্দারা তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর নিজের চাচা ইমরান খান তাঁকে ‘মাফিয়া’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, তিনি শিক্ষার্থীদের জীবন ও সংখ্যা নিয়ে প্রতারণা করছেন। পাশাপাশি, জমি ও রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশীদের অকারণে হেনস্থা করা এবং এক ফোনেই প্রশাসনিক কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। দেওয়াল ভাঙা থেকে শুরু করে গুলি চালানোর নির্দেশ—সব কিছুর নেপথ্যেই তাঁর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও পুলিশের কড়া নজরদারি

এই জোড়া বিতর্কে খান স্যারের দেশজোড়া জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তি এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ শিক্ষকের গণ্ডি পেরিয়ে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠছে, তা আইনি পথে প্রমাণিত হলে তাঁর ক্যারিয়ার চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। পাটনা পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই ধরনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আগামী দিনে বিহারের কোচিং শিল্প ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *