চাকরি দেওয়ার নামে কাটমানি, কোচবিহারে তৃণমূল সাংসদ ও বিধায়কের বাড়ি ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ!

কোচবিহারে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলা এবং সরকারি পরিষেবার বিনিময়ে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল স্থানীয় রাজনৈতিক মহল। রবিবার সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায় এবং কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। টাকা ফেরতের দাবিতে ক্ষুব্ধ জনতার এই কর্মসূচির জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
ক্ষোভের কারণ ও দুর্নীতির অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি চাকরি এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এলাকার প্রচুর মানুষের কাছ থেকে মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি চাকরি, ফেরত পাওয়া যায়নি টাকাও। এই দীর্ঘস্থায়ী বঞ্চনার ক্ষোভ থেকেই এদিন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ‘চোর’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে সাংসদ ও বিধায়কের বাড়ির সামনে জড়ো হন এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন। একইসঙ্গে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
এই ঘটনার জেরে জেলা রাজনীতিতে শাসকদলের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ আগামী দিনে কাটমানি ও দুর্নীতি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে টাকা ফেরত এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ না করা হলে বা টাকা ফেরত না মিললে এই ক্ষোভ জেলা জুড়ে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা আগামী দিনে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।