এবার পুরসভার দেড় লক্ষ বালতি চুরি! তারক সিংয়ের মেয়ের বিরুদ্ধে ফুঁসছে বেহালা

কলকাতা পুরসভার বাড়ি বাড়ি বিতরণের জন্য বরাদ্দ প্রায় দেড় লক্ষ বালতি উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বেহালায়। রায় বাহাদুর রোডের কাছে একটি কারখানার পরিত্যক্ত জমিতে স্তূপাকারে মজুত অবস্থায় পাওয়া যায় পুরসভার ওই সবুজ-নীল বালতিগুলি। সরকারি সম্পত্তি সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে এভাবে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কৃষ্ণা সিংয়ের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেহালা থানায় অভিযোগ জানায় সাধারণ মানুষ।
দুর্নীতির জালে তৃণমূল নেতার পরিবার
সদ্য কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া তারক সিংয়ের মেয়ে হলেন কৃষ্ণা সিং। বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ, কারখানার ওই পরিত্যক্ত জমিটি প্রোমোটিংয়ের জন্য বিক্রি হয়ে গিয়েছে এবং তার সঙ্গেই পুরসভার এই লক্ষাধিক বালতি বেআইনিভাবে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন কাউন্সিলর কৃষ্ণা। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পুরসভার গ্রিল, লোহা থেকে শুরু করে এলাকার জমি বিক্রি— সর্বত্রই দুর্নীতিতে যুক্ত তারক সিং এবং তাঁর ছেলেমেয়েরা। সরকারি সম্পত্তি লুটের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনা শাসকদলের ভাবমূর্তিতে নতুন করে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে জানান যে শাসকদল আর কোনও কিছুই চুরি করতে বাকি রাখেনি। উল্লেখ্য, শনিবারই শ্রীরামপুরে ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পের সরকারি বালতি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই তৃণমূল নেতা। বেহালার এই ঘটনা সরকারি প্রকল্পের সামগ্রিক স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে জনমানসে প্রবল সংশয় তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এমন সরকারি সম্পত্তি মজুত বা চুরির অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করছে, যা আগামী দিনে শাসকদলের জন্য আরও বড় রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।