হারের ধাক্কায় তৃণমূলে ভাঙন, ‘পথই পথ দেখাবে’ বলে দল ছাড়লেন দাপুটে নেত্রী রুনা!

হারের ধাক্কায় তৃণমূলে ভাঙন, ‘পথই পথ দেখাবে’ বলে দল ছাড়লেন দাপুটে নেত্রী রুনা!

সদ্য সমাপ্ত বঙ্গ নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলে অব্যাহত ‘গৃহদাহ’। দলের অন্দরে বিভক্তি এবং দলত্যাগের জল্পনার মাঝেই এবার ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন বলাগড়ের যুব নেত্রী তথা হুগলি জেলা পরিষদের সদস্যা রুনা খাতুন। দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি জানিয়েছেন, মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে পালাবদলের পর নতুন সরকারকে উন্নয়নের জন্য কাজের পরিসর দেওয়া উচিত।

বিক্ষোভের কারণ ও অতীত সমীকরণ

টানা তিনবারের হুগলি জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যা এবং সুবক্তা হিসেবে পরিচিত রুনা খাতুন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। উপরন্তু, ভোটের কয়েক মাস আগে বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছিল। সূত্রের খবর, দল তাঁকে যোগ্য সম্মান দেয়নি বলে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই নেত্রী। একইসঙ্গে দলের এই বিপুল বিপর্যয়ের জন্য শীর্ষ নেতৃত্বকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত ও রাজনৈতিক প্রভাব

আগামী দিনে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে তিনি যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি প্রাক্তন এই তৃণমূল নেত্রী। বরং তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি মন্তব্য করেছেন, “পথই পথ দেখাবে।” রাজনীতি ছাড়াও মানুষের কাজ করার বিকল্প প্ল্যাটফর্ম রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। হুগলি জেলা তৃণমূল রাজনীতিতে যথেষ্ট দাপট থাকা এই নেত্রীর দলত্যাগ স্থানীয় স্তরে সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে রুনার দলত্যাগের পরেও তাঁর স্বামী অরিজিৎ দাস এখনও বলাগড়ের সিজা কামালপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান হিসেবেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, যা এই রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *