চুক্তি শেষ হলেও মিলছে না বাড়ি, তৃণমূল কার্যালয় উদ্ধারে এবার আইনি পথের ভাবনা মালিকের!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার ভাড়া নেওয়া দলীয় কার্যালয় নিয়ে চরম জটিলতার মুখে পড়ল রাজ্যের পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটনের একটি বাড়ি খালি না করার অভিযোগ উঠেছে দলের বিরুদ্ধে। বাড়ির মালিকের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন জানানো এবং সময় দেওয়া সত্ত্বেও কোনও সদর্থক সাড়া মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সম্পত্তি ফিরে পেতে এবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাড়ির মালিক মন্টু সাহা ও তাঁর পরিবার।
মেয়াদ ফুরিয়েছে চুক্তির, মিলছে না যোগাযোগ
জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে মেট্রোপলিটন এলাকায় একটি হোটেল ভবন তৈরি করেছিলেন ব্যবসায়ী মন্টু সাহা। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ইএম বাইপাসের ধারের মূল কার্যালয়টি কর্পোরেট ধাঁচে নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্তর্বর্তীকালীন অফিস হিসেবে মন্টুবাবুর ওই ভবনটি প্রথমে দেড় বছরের চুক্তিতে ভাড়া নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভাড়ার মেয়াদ কিছুটা বৃদ্ধি করা হলেও ২০২৫ সালে সেই চুক্তির চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর বাড়ির মালিক পক্ষ ভবনটি খালি করার জন্য দুই মাসের সময় দিলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে দলের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করছেন না এবং মালিকপক্ষের ফোনও ধরা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার সকালে মালিক ও তাঁর ছেলে অমিত সাহা ওই কার্যালয়ে গিয়েও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে খালি হাতে ফিরে আসেন।
আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
নিজেদের ন্যায্য সম্পত্তি ফেরত পেতে এখন আইনি পথেই হাঁটতে চলেছে সাহা পরিবার। এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাচ্যুতির পর রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় যখন ভাঙন দেখা দিচ্ছে, তখন এই ধরণের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিতর্ক দলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ করবে। এছাড়া বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ওই ভবনে রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে ভাঙচুর বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে মালিকপক্ষ। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন দিল্লির জাতীয় রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক ভাঙন সামলাতে ব্যস্ত, তখন কলকাতার এই দলীয় কার্যালয় বিতর্ক প্রাক্তন শাসকদলকে নতুন আইনি মারপ্যাঁচে ফেলতে চলেছে।