কোটি টাকার সম্পত্তি হাতাতে খুন দিল্লির অধ্যাপিকা! বর্ধমান থেকে গ্রেফতার ভাড়াটিয়া দম্পতি

কোটি টাকার সম্পত্তি হাতাতে খুন দিল্লির অধ্যাপিকা! বর্ধমান থেকে গ্রেফতার ভাড়াটিয়া দম্পতি

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের চাঞ্চল্যকর খুনের কিনারা করল পুলিশ। পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দেহ উদ্ধারের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া দম্পতি রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাসকে। খুনের সময় সঙ্গে থাকায় আটক করা হয়েছে তাঁদের নাবালক ছেলেকেও। ধৃতদের স্থানীয় আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

খুনের মোটিভ ও নেপথ্যের কারণ

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ কোটি টাকার সম্পত্তির দখলদারি। বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায় দেবস্মিতার দাদুর একটি সম্পত্তি ছিল, উত্তরাধিকার সূত্রে যার মালিক হন এই অধ্যাপিকা। অভিযুক্ত রামপ্রসাদ ও বনশ্রী দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতেই ভাড়া থাকতেন এবং সম্পত্তিটি জবরদখল করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, বাড়ি খালি করার জন্য তাঁদের ওপর ক্রমাগত আইনি ও মানসিক চাপ দিচ্ছিলেন দেবস্মিতা। এই বিবাদের জেরে পথের কাঁটা চিরতরে সরিয়ে দিতেই প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে দিল্লিতে গিয়ে অধ্যাপিকাকে খুনের পরিকল্পনা করেন ওই দম্পতি।

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও সম্ভাব্য প্রভাব

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, গত বুধবার অত্যন্ত সুকৌশলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। একটি প্রাইভেট ক্যাবে করে অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে সন্দেহ এড়াতে লিফটের বদলে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলায় ওঠেন মাস্ক পরিহিত দম্পতি। সঙ্গে ছোট ছেলে থাকায় ও পূর্বপরিচিত হওয়ায় দেবস্মিতা নিজেই দরজা খুলে দেন। এরপর তাঁকে খুন করে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে পোশাক বদলে ফের ওই একই ক্যাবে চড়ে পালিয়ে যান তাঁরা। ক্যাবচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ২০২২ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে দেবস্মিতা ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা ভিন রাজ্যে বসবাসকারী একা মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করার পাশাপাশি, ভাড়াটিয়াদের সঠিক তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তাকে ফের একবার জোরালোভাবে সামনে এনেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *