একই পরিবারে কি একাধিক মহিলা পাবেন অন্নপূর্ণার ৩ হাজার টাকা, জেনে নিন আসল সরকারি নিয়ম!

একই পরিবারে কি একাধিক মহিলা পাবেন অন্নপূর্ণার ৩ হাজার টাকা, জেনে নিন আসল সরকারি নিয়ম!

রাজ্য সরকারের নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে একই পরিবার থেকে একাধিক মহিলা এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ সফর চলাকালীন শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা থেকে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো এই প্রকল্পেও একই পরিবারের একাধিক যোগ্য মহিলা আবেদন করতে পারবেন এবং নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করলে প্রত্যেকেই এই সুবিধা পাবেন। তবে এর জন্য পূর্ববর্তী প্রকল্পের উপভোক্তা সহ সকলকেই নতুন করে আবেদন জানাতে হবে।

একটি ফর্মেই পুরো পরিবারের আবেদন এবং যোগ্যতার মাপকাঠি

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম যাতে কম না পড়ে সেদিকে সরকার কড়া নজর রাখছে। এই প্রকল্পের জন্য প্রতিটি পরিবারে একটি মাত্র ফর্ম দেওয়া হবে। আলাদা আলাদা করে পরিবারের প্রত্যেক মহিলার জন্য ভিন্ন ফর্ম নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ওই একটি ফর্মের ভেতরেই পরিবারের একাধিক সদস্যের বিবরণ এবং পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়ার নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। ফলে একই ছাদের তলায় বসবাসকারী এবং একই রান্নাঘরের খাবার খাওয়া শাশুড়ি, বৌমা, মেয়ে বা ননদ—যাঁরা এই প্রকল্পের যোগ্য, তাঁরা সবাই ওই একটি মাত্র ফর্মের মাধ্যমেই আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বয়স এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে পরিবার পিছু কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই প্রতিটি যোগ্য নারী ব্যক্তিগতভাবে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এমনকি ২৫ বছর পার হয়ে যাওয়া পরিবারের অবিবাহিত কন্যারাও এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।

একক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও তথ্যের সঠিকতা যাচাই

এই প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কিছু কঠোর নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সুনিশ্চিত করতে এবার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফর্মে আবেদনকারী সহ পরিবারের সকলের পেশা, মোট উপার্জন, জমি, বাড়ি ও যানবাহনের বিবরণের মতো তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারী প্রত্যেক মহিলার নিজস্ব নামে একটি একক বা সিঙ্গেল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। কোনো যৌথ বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই টাকা পাওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো ভুয়ো তথ্য দিলে বা একই তথ্য দুই জায়গায় ব্যবহার করলে আবেদনপত্রটি সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে। এই নিয়মের ফলে একদিকে যেমন প্রকৃত দুস্থ মহিলারা আর্থিক সহায়তার আওতায় আসবেন, অন্যদিকে সরকারি স্তরে প্রতিটি পরিবারের একটি নিখুঁত ডেটাবেস তৈরি হবে যা ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক সুবিধা বণ্টনে বড় প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *