বারাণসীর মূল শহর থেকে সরছে মাছ-মাংসের দোকান, পৌরনিগমের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ!

বারাণসীর মূল শহর থেকে সরছে মাছ-মাংসের দোকান, পৌরনিগমের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ!

বাবা বিশ্বনাথের পুণ্যভূমি বারাণসীতে এবার বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল আসতে চলেছে। ঐতিহ্যবাহী এই শহরের মূল এলাকা থেকে সমস্ত মাছ ও মাংসের দোকান বাইরে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছে বারাণসী পৌরনিগম। মেয়র অশোক কুমার তিওয়ারির নেতৃত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পৌরনিগমের এই সিদ্ধান্তের ফলে শহরের আমিষ ব্যবসায়ী এবং সাধারণ উপভোক্তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিকল্প পাঁচ স্থান এবং স্থানান্তরের কারণ

বারাণসী পৌরনিগমের কমিশনার হিমাংশু নাগপাল জানিয়েছেন, এই স্থানান্তরের ফলে বাসিন্দাদের অসুবিধা কমাতে শহরের সীমানার কাছাকাছি পাঁচটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানের চালু দোকানগুলিকে রামনগর, সুজাবাদ, গণেশপুর, অবলেশপুর এবং শিবপুরের নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তরিত করা হবে। প্রশাসনের দাবি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে এই দোকানগুলি সরানো হলে শহরের পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি পাবে, যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং সামগ্রিক নগর ব্যবস্থাপনা ও পৌর পরিষেবা আরও সুসংহত হবে। মূলত কাশী বিশ্বনাথ মন্দির করিডোর ও গঙ্গার ঘাট সংস্কারের পর পর্যটন ব্যবস্থার যে আধুনিকায়ন শুরু হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

ঐতিহাসিকভাবে বারাণসী বহু বাঙালির কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং একপ্রকার ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে পরিচিত। এখনও এই ঐতিহাসিক শহরে কয়েক হাজার বাঙালি স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। মূল শহর থেকে মাছ-মাংসের বাজার দূরে সরে যাওয়ায় সাধারণ বাসিন্দা, বিশেষ করে মৎস্যপ্রিয় বাঙালিদের দৈনন্দিন বাজার করার খরচ এবং ভোগান্তি দুই-ই বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, হঠাৎ করে বাজার স্থানান্তরের ফলে স্থানীয় শত শত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আধুনিক নগরোন্নয়নের এই প্রয়াস বারাণসীর ঐতিহ্যবাহী আমিষ ব্যবসার ভবিষ্যৎকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *