আইনি জটের আশঙ্কা, মমতার পছন্দে মেয়র বাছতে নারাজ অধিকাংশ তৃণমূল কাউন্সিলর!

কলকাতা পুরসভায় শাসকদলের অন্দরে এবার বড়সড় ফাটল প্রকাশ্যে এল। সদ্য পদত্যাগী মেয়র ফিরহাদ হাকিমের উত্তরসূরি হিসেবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে নারাজ দলের অধিকাংশ কাউন্সিলর। আইনি জটিলতার আশঙ্কায় রবিবার গোপন বৈঠকে ডাকা হলেও, ‘সাদা পাতায়’ সই করেননি অর্ধেকের বেশি তৃণমূল পুরপ্রতিনিধি। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাদা পাতায় সই সংগ্রহ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব
পুরসভার অচলাবস্থা কাটাতে এবং নতুন মেয়র নির্বাচনের জন্য রবিবার উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায় দুটি গোপন সই-সংগ্রহ কেন্দ্রের আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে মেয়র হিসেবে বেছে নেবেন, তাকে সমর্থন জানিয়ে একটি সাদা পাতায় কাউন্সিলরদের আগাম স্বাক্ষর নেওয়া। পরবর্তী মেয়র হিসেবে অতীন ঘোষ ও প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম চর্চায় থাকলেও, স্বাক্ষরের পাতায় কোনো নির্দিষ্ট নাম ছিল না। দেবাশিস কুমার, অসীম বসুর মতো বিদায়ী বোর্ডের একাধিক হেভিওয়েট মেয়র পারিষদ এবং বোরো চেয়ারম্যান এই সই-সংগ্রহ কেন্দ্র এড়িয়ে গেছেন।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কাউন্সিলরদের এই অনীহার মূল কারণ হলো আইনি পদক্ষেপের ভয়। বিধানসভায় বিধায়কদের সই জাল-কাণ্ডের ছায়া এবার পুরসভাতেও পড়েছে। দলের বিক্ষুব্ধ একটি গোষ্ঠী মনে করছে, সাদা পাতায় সই করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে পেছন থেকে বিধানসভার দুই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও খবর। বর্তমানে তৃণমূলের ১৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৭ জন জেলে রয়েছেন। নতুন মেয়র নির্বাচনে ৬৮ জনের সমর্থন প্রয়োজন হলেও, দুই শিবির মিলিয়ে সেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি শাসকদল।
এই বিদ্রোহের ফলে কলকাতা পুরসভায় এক চরম সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন জোগাড়ে ব্যর্থ হওয়ায় পুরবোর্ড ভেঙে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রশাসক বসানোর সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠল। একইসঙ্গে, শাসকদলের এই প্রকাশ্য কোন্দলকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধী শিবির। সজল ঘোষের মতো বিরোধী নেতারা ইতিমধ্যেই তৃণমূলের এই ফাটলকে দলের ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে দাবি করেছেন।