ফের রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য! ইরান-ইজরায়েলের সরাসরি যুদ্ধে তেহরানে বিস্ফোরণ, কী বললেন ট্রাম্প?

মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা তেহরান ও তেল আবিবের দ্বৈরথে উত্তাল বিশ্ব
ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রবিবার রাতে তেহরানের বিভিন্ন শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বেইরুটে ইজরায়েলি হামলার জবাব দিতেই ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সরাসরি ইজরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। গত ৮ এপ্রিলের পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে প্রথম সরাসরি সামরিক সংঘাত, যা পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
হামলা ও পাল্টা হামলার নেপথ্য কারণ
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, তারা ইজরায়েলের রামাত ডেভিড সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের কূটনৈতিক তৎপরতা ও শান্তির সম্ভাবনা
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। যদিও ইরান স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো শান্তি চুক্তি লেবানন পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর নির্ভর করছে, তবে ইজরায়েল এই শর্ত মানতে নারাজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও আশাবাদী যে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংঘাত নিরসন করা সম্ভব। দুই দেশই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাধান এখন বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।