ভেঙে গেল শান্তিচুক্তি, ইজরায়েলে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যুদ্ধের দামামা বাজাল ইরান!

ভেঙে গেল শান্তিচুক্তি, ইজরায়েলে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যুদ্ধের দামামা বাজাল ইরান!

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিচুক্তির আশা ভেস্তে দিয়ে ফের সরাসরি বড়সড় সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল ইরান ও ইজ়রায়েল। গত এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষবিরতি ভেঙে রবিবার রাতে ইজ়রায়েলকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। লেবাননের রাজধানী বেইরুটে ইজ়রায়েলের সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণের প্রতিবাদেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। এই ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে এক ভয়াবহ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হামলার নেপথ্য কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান থেকে অন্তত ১০টি শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। এর জেরে ইজ়রায়েলের উত্তর প্রান্তসহ বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে এবং আকাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের দাবি, তারা ইজ়রায়েলের নাজ়ারেথের কাছে ‘রামাত ডেভিড’ বিমানঘাঁটিকে নিশানা করেছিল। তবে ইজ়রায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সঠিক সময়ে ইরানের সবকটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে, ফলে দেশের ভিতরে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। মূলত চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই এই সংঘাত চরম রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত এপ্রিল মাসে একটি চুক্তি হলেও, ইজ়রায়েল ফের বেইরুটে বোমা ফেললে ইরান এই পদক্ষেপ নেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের মেঘ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই হামলার জেরে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হামলার পরপরই ইরানের সামরিক বাহিনী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই ধরণের আগ্রাসন ফের হলে পুরো অঞ্চলের আমেরিকান ও ইহুদিদের ওপর আরও জোরালো আক্রমণ করা হবে। অন্যদিকে, ইজ়রায়েল এখনও পাল্টা কোনও হামলা না চালালেও তারা যেকোনোও মুহূর্তে বড়সড় প্রত্যাঘাতের তীব্র প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ইজ়রায়েলি সামরিক মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান একটি ভয়ঙ্কর ভুল করেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের এই অনড় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিতে পারে। একই সাথে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোকে সরাসরি মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *