অ্যান্টার্কটিকায় বন্দি পৃথিবীর ৭০ শতাংশ মিষ্টি জল, তবু কেন বাড়ছে সংকট?

অ্যান্টার্কটিকায় বন্দি পৃথিবীর ৭০ শতাংশ মিষ্টি জল, তবু কেন বাড়ছে সংকট?

নীল গ্রহ পৃথিবীতে জলের অভাব নেই, কিন্তু পানের উপযোগী মিষ্টি জলের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত। বিশ্বের মোট জলভাণ্ডারের সিংহভাগই লবণাক্ত হলেও যে সামান্য অংশ মিষ্টি জল হিসেবে রয়েছে, তাও মানুষের নাগালের বাইরে। বিশ্বকোষ ‘এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা’ এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট মিষ্টি জলের প্রায় ৭০ শতাংশই জমে রয়েছে আন্টার্কটিকার বরফের চাদর (আইস শিট) এবং বিভিন্ন হিমবাহে। বিপুল এই প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ভৌগোলিক ও পরিবেশগত কারণে তা মানুষের সরাসরি কোনো কাজে আসছে না।

অ্যান্টার্কটিকায় বন্দি জলভান্ডার ও ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট জলের ৯৬.৫ শতাংশই সমুদ্রের নোনা জল। বাকি মাত্র আড়াই শতাংশ মিষ্টি জলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বরফ হয়ে জমে আছে দক্ষিণ মেরুর অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডে। আমেরিকার ‘ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টার’ জানাচ্ছে, অ্যান্টার্কটিক আইস শিট প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই অতিশীতল ও জনমানবহীন অঞ্চলে বরফের স্তর কোথাও কোথাও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত পুরু। চরম প্রতিকূল আবহাওয়া, দীর্ঘ ভৌগোলিক দূরত্ব এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এই জল আহরণ করা মানুষের পক্ষে আসাম্ভব। ফলে পৃথিবীর বৃহত্তম মিষ্টি জলের ভান্ডারটি দৃশ্যত সবচেয়ে কম ব্যবহারযোগ্য হয়ে রয়েছে।

সহজলভ্য জলের তীব্র সংকট ও আসাম বণ্টন

হিমবাহের বাইরে থাকা মিষ্টি জলের প্রায় ৩০ শতাংশ রয়েছে ভূগর্ভে। তবে মাটির গভীর স্তরে থাকায় বিপুল অর্থ খরচ করে তা পাম্পের মাধ্যমে তুলে আনা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। ফলে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি এবং মার্কিন পরিবেশরক্ষা সংস্থা (ইউএসইপিএ)-র মতে, পৃথিবীর মোট মিষ্টি জলের মাত্র এক শতাংশেরও কম অংশ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী। এই সামান্য জলও আবার পৃথিবীতে সমানভাবে বণ্টিত নয়। ভূপৃষ্ঠের সহজলভ্য মিষ্টি জলের সিংহভাগই ব্রাজিল, রাশিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, চীন, কলম্বিয়া এবং আমেরিকার মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশে কেন্দ্রীভূত। এই প্রাকৃতিক আসাম বণ্টনের কারণে একদিকে যেমন মিষ্টি জলের বিশাল ভান্ডার অব্যবহৃত পড়ে আছে, অন্যদিকে পৃথিবীর একটি বড় অংশে সুপেয় জলের সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *