১২ বছরের বঞ্চনার অবসান! মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ মুগ্ধ গায়িকা ঋদ্ধি

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ উপস্থিত হয়ে নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি এই দরবারে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের দীর্ঘ ১২ বছরের বঞ্চনার কথা তুলে ধরলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। শিল্পীর এই পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়টি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।
তৎপর প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কেবল শাসকদলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভাবেই দীর্ঘ ১২ বছর কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি ডাক পাননি বলে অভিযোগ গায়িকার। আক্ষেপের বিষয়, সেই সময় কোনও বর্ষীয়ান শিল্পীও এই অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ করেননি। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর মাত্র এক দিনের মধ্যেই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। ঋদ্ধি জানান, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাঁর অভিযোগ শুনেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে আগামীতে কোনও শিল্পীকে এমন বঞ্চনার শিকার হতে হবে না। দোষীদের শাস্তির বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ভরসা দিয়েছেন।
সাধারণ মানুষের ভিড় ও কর্মীদের প্রশংসনীয় আচরণ
শুধু বিশিষ্টজনেরাই নন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রামগঞ্জ ও মফস্সলের সাধারণ মানুষও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে নিজেদের সমস্যা জানাতে দরবারে হাজির হচ্ছেন। বিগত আমলের জমি-বাড়ি সংক্রান্ত দুর্নীতির শিকার হওয়া প্রবীণ নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে এবং সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ‘জনতার দরবার’-এর কর্মীদের বিনয়ী ও ভদ্র আচরণে রীতিমতো অভিভূত গায়িকা। লকেট চট্টোপাধ্যায় ও শশীদির মতো নেতৃত্বের উপস্থিতিতে প্রবীণদের প্রতি সম্মানজনক ব্যবহার তাঁর বিশেষ নজর কেড়েছে।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলের দলতন্ত্র ও দুর্নীতির ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার এই প্রশাসনিক প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সকলে। এই উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে সাংস্কৃতিক জগত-সহ সব ক্ষেত্রেই যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ তৈরি হবে এবং নির্দিষ্ট কিছু মানুষের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।